
প্রথম প্রকাশের প্রায় ১৪ বছর পর অবশেষে পিসিতে এলো রেড ডেড রিডেম্পশন। যদিও এটাই সিরিজের প্রথম গেম, দ্বিতীয় গেমের ঘটনাবলির পর প্রথম গেমটি শুরু হয়েছে। যারা শুধু রেড ডেড রিডেম্পশন টু খেলেছেন,তাঁদের জন্য প্রথম গেমটি খেলা অভিজ্ঞতা হবে সিক্যুয়াল খেলার মতো।
তবে রেড ডেড রিডেম্পশন টু-এর সঙ্গে তুলনা করলে প্রথম গেমটিকে অসম্ভব পুরনো মনে হবে।অবশ্য দুটো গেম প্রকাশিত হওয়ার মধ্যে প্রায় এক যুগের তফাত রয়েছে, সেটাই স্বাভাবিক।রেড ডেড রিডেম্পশনের শুরুতে দেখা যাবে ওয়াইল্ড ওয়েস্ট যুগ পেরিয়ে আমেরিকায় কেন্দ্রীয় শাসন ও সভ্যতার বাতাস বইতে শুরু করেছে। ফেরি এবং ট্রেনে চড়ে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ফ্রন্টিয়ার এলাকায় আসতে শুরু করেছে, জনমানবহীন প্রান্তর আর আউট-ল জীবনের যেন এটাই সমাপ্তি। এর মধ্যেই গেমের মূল চরিত্র জন মারস্টনকে বগলদাবা করে দুজন পিংকারটন এজেন্ট হাজির হয়েছে আরমাডিলো শহরে।জনের সামনে লক্ষ্য একটাই, তার একসময়ের বন্ধু এবং একই আউট-ল গ্যাংয়ের সদস্য বিলকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। থার্ড পারসন অ্যাকশন শ্যুটার ঘরানার গেমটির পুরোটাই গেমারের কাটবে জন মারস্টন যে গ্যাংয়ের সদস্য ছিল, তার তিনজন সদস্যকে খুঁজে বের করা ঘিরে।রেড ডেড রিডেম্পশনের মধ্যে পুরনো স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্ন সিনেমার প্রভাব সুস্পষ্ট। রেড ডেড রিডেম্পশন টু-এর সঙ্গে গেমপ্লেতেও রয়েছে বড়সড় পার্থক্য।এদিকে জন মারস্টন খুবই কম কথার মানুষ, আশপাশের অন্যান্য মানুষের সঙ্গে তার মেশার চেষ্টাও নেই। গ্যাংয়ের সদস্যদের খুঁজে বের করার বাইরে তার অন্যান্য কাজ ও মিশনে আগ্রহও খুবই কম। তবে ঘোড়ায় চড়ে টেক্সাস বা অ্যারিজোনার মরুভূমি বা মেক্সিকোর দুর্দান্ত ডাকাতপ্রবণ ও গৃহযুদ্ধের ফলে ভয়ংকর বিপজ্জনক এলাকা ঘুরে বেড়ানোর মজা গেমটিতে পাওয়া যাবে।
কাহিনিটি খুব লম্বা না হলেও রেড ডেড রিডেম্পশন টু -এর চেয়ে কোনোভাবেই কম গভীর ও চমকপ্রদ নয়। সমস্যা হচ্ছে, রকস্টার গেমটিকে আধুনিকায়নের ন্যূনতম চেষ্টাও করেনি।
