
অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত প্যালেস্টাইনের গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। চরম এই দুরবস্থার মধ্যে পড়ে অনেক বাসিন্দা বেঁচে থাকার তাগিদে এখন খাচ্ছেন সামুদ্রিক কচ্ছপের মাংস,যা একটি আন্তর্জাতিকভাবে সংরক্ষিত ও বিপন্ন প্রাণী।বিশেষ করে ১৮ মার্চ ইসরায়েল একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার স্থল ও বিমান হামলা শুরু করলে গাজায় মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে।
বন্ধ হয়ে গিয়েছে ত্রাণ প্রবেশ, বাজার থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার,খাদ্যপণ্য।এমন অবস্থায় গাজাবাসীরা বেঁচে থাকার জন্য আশ্রয় নিচ্ছেন পূর্বে অকল্পনীয় খাদ্য বিকল্পের দিকে।আরব নিউজ-এ প্রকাশিত এক রিপোর্টে উঠে এসেছে সেই করুণ বাস্তবতা।এতে বলা হয়েছে, খাবারের কোনো উপায় না পেয়ে অনেক পরিবার এখন বিকল্প প্রোটিনের উৎস হিসেবে সামুদ্রিক কচ্ছপ রান্না করে খাচ্ছেন।এদিকে উপকূলীয় এলাকায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে এসব বিপন্ন কচ্ছপ। এক জেলে বলেছেন,যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কখনো ভাবেন নি কচ্ছপ খেতে হবে। কিন্তু এখন তাঁদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। ইসলামি নিয়ম মেনেই কচ্ছপ জবাই করছেন।উল্লেখ্য,বর্তমানে গাজা উপত্যকায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।
রাষ্ট্রসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, দুর্ভিক্ষ এখন কেবল আশঙ্কা নয়,বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।এদিকে অভিযোগ,ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ, বাজারে পণ্যের সঙ্কট ও দামের ঊর্ধ্বগতির ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হচ্ছেন পশুখাদ্য, ঘাস, এমনকি পচা জল পর্যন্ত খেতে।এই অবস্থায়,এই কঠিন সময়ে কচ্ছপের মতো একটি বিপন্ন প্রজাতিই হয়ে উঠেছে গাজাবাসীর প্রোটিনের একমাত্র উৎস।








