
শরীরে হাড়ের মজবুতি থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্রের ছন্দ ঠিক রাখা,সব কিছুতেই এক অপরিহার্য খনিজ ক্যালসিয়াম। অনেক সময় আমরা মনে করি কেবল দুধ খেলেই ক্যালসিয়ামের অভাব মিটে যাবে।
কিন্তু আমাদের আশেপাশে এমন অনেক খাবার আছে, যা দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম সরবরাহ করতে পারে? এখন প্রশ্ন হলো আধুনিক জীবনযাত্রায় হাড়ের ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিস রুখতে ডায়েটে কোন খাবারগুলো রাখবেন ? আসলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে ক্লান্তি, পেশিতে টান এবং হাড়ের ভঙ্গুরতা দেখা দেয়।এই সমস্যা এড়াতে শুনতে অবাক লাগলেও ক্যালসিয়ামের খনি বলা হয় তিলকে। মাত্র এক টেবিল চামচ সাদা তিলে প্রায় ৮৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। এটি হাড় মজবুত করার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। আপনি এটি সালাদ বা স্মুদিতে মিশিয়ে খেতে পারেন।ওদিকে বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে চিয়া সিডস অত্যন্ত জনপ্রিয়। এতে কেবল ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড নয়, প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা হাড়ের ঘনত্বের উন্নতি ঘটায়।পাশাপাশি,দানাদার শস্যের মধ্যে রাগির চেয়ে বেশি ক্যালসিয়াম আর কোনোটিতে নেই। ১০০ গ্রাম রাগিতে প্রায় ৩৪৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।এটি গ্লুটেন-মুক্ত এবং শিশুদের হাড়ের গঠনের জন্য অত্যন্ত উপকারী।ওদিকে,দুধ সরাসরি খেতে ভালো না লাগলে পনির বা টক দই বেছে নিন। পনিরে থাকা ক্যালসিয়াম শরীর খুব সহজে শোষণ করতে পারে। বিশেষ করে টক দই প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি দাঁত ও হাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।আবার,সবুজ শাক-সবজি,বাঁধাকপি, ব্রকলি ও পালং শাক ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস।তবে পালং শাকে অক্সালেট থাকায় ক্যালসিয়াম শোষণে কিছুটা বাধা দেয়, তাই ব্রকলি বা সজনে ডাঁটা ডায়েটে রাখা বেশি কার্যকর। অবাক করার মত বিষয় সজনে ডাঁটা বা পাতায়, দুধের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি ক্যালসিয়াম থাকে।সব ধরনের বাদামের মধ্যে আমন্ডে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
প্রতিদিন এক মুঠো ভেজানো আমন্ড খেলে হাড়ের সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।তবে,মনে রাখবেন, যতই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান না কেন, যদি শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব থাকে,তবে শরীর সেই ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারবে না। তাই প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট রোদে থাকার চেষ্টা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ডি পরীক্ষা করিয়ে নিন।
