রোজায় গ্যাসের সমস্যায় 

0
116
ছবি সৌজন্যে : প্রতিনিধিত্বমূলক

আমাদের পাকস্থলিতে প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দু’ লিটার হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ক্ষরণ হয়, যার কাজ হচ্ছে পাকস্থলিতে খাবার পরিপাক করতে সাহায্য করা। যদি কোনো কারণে পাকস্থলিতে এই হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ক্ষরণের মাত্রা বেড়ে যায় তাহলে পাকস্থলির অভ্যন্তরীণ আবরণ তথা মিউকাস মেমব্রেনে প্রদাহ তৈরি হয় যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় গ্যাসট্রাইটিস বলে।

অতিরিক্ত খাবার খেলে কিংবা অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে কিংবা বেশি বেশি তৈলাক্ত খাবার খেলে পাকস্থলিতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায় এবং প্রদাহ হয়, যাকে আমরা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করি।এদিকে,রমজানে সারা দিন না খেয়ে উপবাস করা হয়।শুধু ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত খাওয়ার সময় থাকে। ফলে এ সময়ের মধ্যে অনেকেই যা ইচ্ছে তা-ই খেতে থাকেন। যার ফলে দেখা দেয় বদ হজম বা পেটে গ্যাসের মতো সমস্যা।এই অবস্থায় গ্যাস্ট্রাইটিসের উপসর্গ হিসাবে দেখা যায় পেটের উপরি অংশে ব্যথা হওয়া।বুক জ্বালা করা।খাবারের আগে পরে পেট ব্যথা হওয়া।খাওয়ার সময় বুকে চাপ পড়ার মতো অনুভব হওয়া। ঢেকুর আসা।বমি বমি ভাব হওয়া এবং খাবারের চাহিদা কমে যাওয়া।এবং অল্প খাবারেই পেট ভরে গেছে মনে হওয়া।এই অবস্থায়,পেটে গ্যাসের সমস্যা কমাতে চাইলে ইফতারে অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার, যেমন পিঁয়াজি, আলুর চপ, বেগুনি, চিকেন ফ্রাই, জিলাপি ইত্যাদি যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। এক সঙ্গে অনেক বেশি খাবার না খাওয়াই ভালো। অনেকে ইফতার করতে বসে গপাগপ খেতে থাকেন,এটা কিছুতেই করা যাবে না।ইফতারে রাখতে পারেন ইসবগুলের শরবত, ডাবের জল ইত্যাদি। এ ছাড়া রাখতে পারেন শর্করা জাতীয় খাবার,যথা খেজুর,পেয়ারা, ছোলা, সেমাই ইত্যাদি।পাশাপাশি ইফতারে প্রথমে অল্প পরিমাণ খাবার খেয়ে মাগরিবের নামাজের পর রাতের খাবার খেয়ে নেওয়া ভালো।সম্ভব হলে তারাবির নামাজের আগেই খেয়ে নিতে হবে।তাহলে খাবারের পরে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে নামাজ পড়লে এক প্রকার ব্যায়াম হয়ে যাবে।এ ক্ষেত্রে খাবার পরিপাকে সহায়ক হবে, পাশাপাশি অ্যাসিডিটির ঝুঁকিও কমে যাবে।সেইসঙ্গে,রোজার মাসে পেটে গ্যাসের সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য রাতের খাবার কিংবা সাহরি দুটোই ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে শেষ করতে হবে এবং খেয়ে অবশ্যই কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে তারপর ঘুমাতে হবে। অন্যথায় অ্যাসিডের ব্যাক ফ্লো হয়ে জি ই আর ডি-এর মতো রোগ হতে পারে।অন্যদিকে,টক জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকলেও সাইট্রিক অ্যাসিডও থাকে। তাই রোজার সময় টক জাতীয় ফল সাবধানতার সঙ্গে খেতে হবে। ভালো হয় রাতের খাবার শেষ করে ভরা পেটে খেলে। এ ছাড়া ঝালজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কেননা, পাকস্থলিতে অ্যাসিডিটির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় তাই কাঁচা লঙ্কা কিংবা অতিরিক্ত ঝাল খাবার।রোজার সময় চা,কফি ইত্যাদি পরিহার করে চলা উচিত।এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং পাকস্থলিতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ক্ষরণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।এই অবস্থায়,সাহরির খাবারেও এমন সব খাবার পরিহার করা উচিত, যা পাকস্থলিতে অ্যাসিডিটি সৃষ্টি করে।যেমন চর্বিজাতীয় খাবার, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, চা কফি ইত্যাদি।

বলা হয়,সাহরি শেষে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে তারপর ঘুমাতে যাওয়া ভালো। এতে শরীর ভালো থাকবে এবং গ্যাসের সমস্যা হবে না।