
দিনের পর দিন অনাহারে রয়েছে গাজার এক তৃতীয়াংশ মানুষ। এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য বিষয়ক কর্মসূচি,ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, গাজার ৯০ হাজার শিশু ও মহিলা অপুষ্টিতে ভুগছেন। তাদেরকে জরুরি চিকিৎসা সার্ভিস দেওয়া প্রয়োজন।
এরমধ্যে খবর গাজার অবরুদ্ধ অঞ্চলে আকাশপথে ত্রাণ পাঠাতে যাচ্ছে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। ইসরায়েল এই দুই দেশকে শিগগিরই এ অনুমতি দেবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল। ইসরায়েলের এক কর্তা জানিয়েছেন, জর্ডান থেকে বিমানযোগে গাজায় ত্রাণ ফেলা হতে পারে। এর আগেও ২০২৩ সালে আমেরিকা, জর্ডান, মিশর ও ফ্রান্স যৌথভাবে আকাশপথে গাজায় কয়েক হাজার ত্রাণ প্যাকেট পাঠিয়েছিল। তবে সে সময় এসব প্যাকেটের কিছু জনবহুল এলাকায় পড়ে ৫ জন গাজাবাসীর মৃত্যু ঘটে। ছোট প্যারাস্যুটে করে খোলা জায়গা লক্ষ্য করে এসব ত্রাণ পাঠানো হলেও, বাতাসের কারণে তা সঠিক স্থানে না পড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছিল। বলা হয়েছে, এ সপ্তাহে গাজায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অপুষ্টিতে আরও নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। এতে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ জনে।এদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, গাজায় ত্রাণ প্রবেশে কোনও প্রকার বাধা দেওয়া হচ্ছে না। তারা ওই পরিস্থিতির জন্য হামাসকে দোষারোপ করছে। ইসরায়েলের প্রতি ত্রাণ প্রবেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা যে মানবিক বিপর্যয় চলছে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানায়।আরও বলেছে, ইসরায়েলকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলতে হবে। অসামরিক নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা আটকে রাখা অগ্রহণযোগ্য বলেও জানিয়েছে দেশগুলো।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেছেন, অনেক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদাসীনতা ও সহানুভূতির অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও গ্লোবাল অ্যাসেম্বলিতে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বলেছেন, খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ২৭ মে থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইসরায়েলি বর্বরতায় এক হাজার প্যালেস্টাইনি নিহত হয়েছেন।








