
সম্প্রতি ইরানে ৮ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় বেশ আলোচনায় উঠে এসেছেন ইরানি নির্মাতা মোহম্মদ রসুলফ।পরিচালককে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী আদালত। একইসঙ্গে তাকে চাবুক মারার নিদের্শও দেওয়া হয়েছে। তার নির্মিত দ্য সিড অব দ্য স্যাক্রেড ফিগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে ইরানে।
তবে সেই সিনেমা এবার জার্মানির হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে অস্কারে।হলিউড রিপোর্ট অনুসারে, অস্কারের ৯৬তম আসরে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে জার্মানির হয়ে। এর মধ্যে জার্মানির পক্ষ থেকে ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে জমা দেয়া হয়েছে রসুলফের সিনেমা দ্য সিড অব দ্য স্যাক্রেড ফিগ। জমা পড়া ১৩টি সিনেমা পর্যালোচনা করে ছবিটিকে নির্বাচন করেছে দেশটির জুরি বোর্ড।এর আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্পেশাল জুড়ি অ্যাওয়ার্ড জিতেছিল সিনেমাটি। সব মিলিয়ে মোহাম্মদ রসুলফের ওপর অখুশি ইরান। ফলে অস্কারে কোনোভাবেই ইরান সিনেমাটিকে অনুমোদন দিত না। অন্যদিকে কারাদণ্ডের রায়ের পর রসুলফ নিজে জার্মানিতে চলে যান এবং তখন থেকেই সেখানে বসবাস করছেন।তাছাড়া সিনেমাটি ইরানি-ফরাসি-জার্মান যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত।সামগ্রিক দিক বিবেচনা করেই নির্বাচন করা হয়েছে এ সিনেমাকে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ইরানীয় কোনো চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক আসরে জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে। জুরির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত একজন পরিচালকের হাতে অনবদ্য নির্মাণ দ্য সিড অব দ্য স্যাক্রেড ফিগ। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত।একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের আসরে জার্মান ও ইরানীয় পরিচালকদের আলাদা সুনাম আছে।জার্মানি সেরা বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচার বিভাগে চারবার জিতেছে।অস্কার আসরে জার্মানির সফলতার শেষ উদাহরণ অ্যাডওয়ার্ড বার্গারের পরিচালনা অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট। অন্যদিকে ইরানের হাতে বিভাগটিতে দুটি পদক এসেছে, যেখানে দুটিই পরিচালক আসগর ফরহাদির। ২০১২ সালে আ সেপারেশন এবং ২০১৭ সালে দ্য সেলসম্যান-এর জন্য তিনি পুরস্কার জেতেন। উল্লেখ্য দ্য সিড অব দ্য স্যাক্রেড ফিগ নির্মাণের পেছনে রসুলফের অনুপ্রেরণা ছিল ২০২২ সালে ইরানে ঘটে যাওয়া আন্দোলন।সেদিক থেকে দেখলে, সিনেমাটি বাস্তব তথ্য ও নির্মাতার কল্পনার মিশেলে নির্মিত এক পলিটিক্যাল থ্রিলার।গল্পের পটভূমি নির্মাণ হয়েছে তেহরানের আদালতের এক বিচারক ইমানকে ঘিরে।ইমান বিচারক হিসেবে উন্নীত হওয়ার পর পরই তেহরানে ব্যাপক আন্দোলন দেখা দেয়। পরিস্থিতি যতই উত্তাল হতে থাকে,তিনি যেন ততই সরে যেতে থাকেন সরকারের পক্ষে। এর প্রভাব পড়ে তার পরিবারে। আশপাশের সবাইকে সন্দেহ করতে শুরু করেন ইমান। বাদ যায় না তার স্ত্রী ও দুই মেয়েও। এভাবে বাড়তে থাকে অবিশ্বাস।




