লাল কার্ড বিতর্কে চরম বিপাকে ফিফা সভাপতি

0
26
ছবি সৌজন্যে : এক্স

বিশ্বকাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল দলের ,ইউএসএমএনটি পক্ষে যাওয়া একটি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত এখন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ও নৈতিক ঝড়ে রূপ নিয়েছে। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে মার্কিন তারকা ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখায় নিয়ম অনুযায়ী বেলজিয়ামের বিপক্ষে পরের ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল।

কিন্তু নাটকীয়ভাবে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে বালোগানকে খেলার অনুমতি দেয়। এই সিদ্ধান্ত ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিলেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যেই জানান যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোকে ফোন করে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনাকে কোনো ফাউল ছিল না এবং দুই দুর্দান্ত অ্যাথলেটের সংঘর্ষ বলে অভিহিত করেন এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর ফিফাকে ধন্যবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য বিজয়োল্লাস ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাকে এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ফিফা দাবি করেছে যে সিদ্ধান্তটি তাদের শৃঙ্খলা কমিটি নিয়েছে এবং ইনফান্তিনো এতে ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত ছিলেন না। তবে সমালোচকরা এই সাফাই মানতে নারাজ। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার ও ক্রীড়া সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার জানিয়েছে, তারা ফিফা সভাপতির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি,আইওসি-র কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবে। সংস্থাটি আরও আশঙ্কা করছে যে ইনফান্তিনো হয়তো আইন বহির্ভূতভাবে এককভাবে এই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারাও এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে একে বিচারের নামে প্রহসন বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।এদিকে পুরো ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

তারা একে শুধু একটি ম্যাচের জয়-পরাজয়ের সমীকরণ হিসেবে না দেখে, ফুটবলের নৈতিকতা ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মৌলিক নীতির ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।