গডজিলা ভার্সেস কং

0
21

মনস্টার জগতের দুই মেগাস্টার- কং ও গডজিলা। বহুদিন পরে কোনও ছবিকে ঘিরে উত্তাল বক্স অফিস। কোনও শাহরুখ-সলমন নয়, দুই দানোর লড়াই চাক্ষুষ করতে হলমুখী দর্শকরা। হিসেব বলছে এযাবৎ ভারতে মোটামুটি ৩৩ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলেছে, গডজিলা ভার্সেস কং। সপ্তাহের শেষেই ব্যবসার অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলতে পারে ৪০ কোটির ঘরও। অন্তত এই করোনা কালে যা রীতিমতো স্বস্তি দিচ্ছে হল মালিকদের। 

একই সময়ে মুক্তি পাওয়া বাকি ছবিগুলি কেউই এর ধারে কাছে নেই। কেবল ভারত নয়, গোটা বিশ্বেই সাফল্যের গ্রাফটা একই রকম আকাশছোঁয়া। ট্রেলার মুক্তি থেকেই পারদ চড়ছিল। তখন থেকেই সারা বিশ্বের কং ও গডজিলা- ফ্যানদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়েছিল কে জিতবে এই মহারণে? আসলে সেই কবে ১৯৬৩ সালে মুখোমুখি হয়েছিল তারা। ইশিরো হন্ডার সেই ছবির পরে পৃথিবী অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে,উন্নতি হয়েছে প্রযুক্তির। ভিএফএক্স-এর জাদুবলে এই ছবি যে রীতিমতো নয়নাভিরাম সুখ এনে দেবে, তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল ট্রেলারেই। সেই প্রত্যাশা মেটাতে পুরোপুরি সফল, গডজিলা ভার্সেস কং। অন্ধকার হলঘরে পর্দাজুড়ে দুই অতিকায়ের দাপাদাপিতে চোখে ধাঁধা লাগতে বাধ্য।অবশ্য, ছবিতে রয়েছে অন্য মনস্টাররাও।তাদের সম্মিলিত উপস্থিতি এই ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।আগের তিনটি ছবি গডজিলা, কং: স্কাল আইল্যান্ড ও গডজিলা : কিং অফ দ্য মনস্টার্স দেখা থাকলে এই ছবিকে প্রথম থেকে বুঝতে সুবিধা হবে। তবে দেখা না থাকলেও খুব বেশি সময় লাগে না ছবির সঙ্গে মিশে যেতে। ছবির শুরুতেই, এন্ট্রি কংয়ের। গডজিলার দেখা মেলে সামান্য পরে। শেষ ছবিতে দেখা গিয়েছিল গডজিলা আর মানুষের ক্ষতি করতে চায় না। কিন্তু এই ছবিতে প্রথম থেকেই সে রেগে আগুন, কেন তার এই আচমকা মেজাজ বদল? এই প্রশ্নের উত্তরেই লুকিয়ে রয়েছে ছবির আসল,টুইস্ট।ছবির অন্যতম আকর্ষণ কিংকং ও অনাথ বালিকা জিয়ার সম্পর্কের রসায়ন। মূক ও বধির এই মেয়েটির সঙ্গে কং যেন এক আত্মিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। কংকে, জাহাজে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার সময়ও সে চুপ করে থাকে কেবল ওই বালিকার জন্যই।নাহলে জাহাজটাকে পাঁপড়ভাজার মতো গুঁড়িয়ে দেওয়াটা কংয়ের কাছে নেহাতই ছেলেখেলা।অন্ধকার সমুদ্রের বুকে ভেসে যেতে যেতে বাড়ি’র জন্য মনখারাপ করে কংয়ের। তখনও ওই ছোট্ট বালিকাই তার মনের কথা বুঝতে পারে। এমনকী মূক ও বধিরদের সাইন ল্যাঙ্গোয়েজ-ও বুঝে ফেলতে শিখেছে কং।