দেশীয় ভ্যাকসিনেই মোদি’র আস্থা

0
16

বিদেশি কোনও সংস্থা নয়, ভারতীয় বৈজ্ঞানিকদের আবিষ্কৃত করোনা ভ্যাকসিনকেই দেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চায় কেন্দ্র সরকার।সেক্ষেত্রে রাশিয়া বা অক্সফোর্ডের তৈরি ভ্যাকসিন নয় বরং ভারতীয় সংস্থার তৈরি ভ্যাকসিনই দেশে প্রথম চালু হবে।

আর সেই ভ্যাকসিন প্রথমে দেওয়া হবে করোনা মোকবিলার ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে থাকা চিকিৎসক,নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাই কর্মীদের।সঙ্গে বয়স্কদেরও, যাঁদের বয়সজনিত কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। সেক্ষেত্রেও আবার যাদের কোমর্বিডিটি রয়েছে তারা অগ্রাধিকার পাবেন।

এই মুহূর্তে ভারতে দৈনিক প্রায় বারো লক্ষ টেষ্ট হচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত পজিটিভিটি রেট পাঁচ শতাংশের উপরে থাকবে ততদিন এই সংখ্যা বৃদ্ধির উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। সংক্রমণ বাড়লেও নানা কর্মকান্ডের বিষয়ে ছাড় দেওয়া নিয়ে প্রশ্নের মুখ পড়তে হয়েছে কেন্দ্রকে। সেই বিষয়ে অবশ্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ জানিয়েছিলেন, জীবন যেমন মূল্যবান, প্রয়োজনীয় জীবিকাও তেমনই প্রয়োজনীয়। দেশে দ্বিতীয়বার করোনা সংক্রমণের ঢেউ আসতে পারে বলেও চিকিৎসক বিশেষজ্ঞ মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।দেশে একদিনে সংক্রমণে ফের নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে করোনাভাইরাস। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে সংক্রমিত হয়েছেন প্রায় ৯১ হাজার মানুষ। এর ফলে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছে। মোট সংক্রমণে বিশ্ব-তালিকার আগেই দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত।ভারতের ঠিক উপরেই রয়েছে আমেরিকা। এখনও পর্যন্ত সেখানে সংক্রমিতের মোট সংখ্যা ৬২ লাখ ৭৫ হাজার। অর্থাত্‍‌ ভারতের থেকে প্রায় ২৯ লাখ বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য বলছে, একদিনের সর্বাধিক সংক্রমণের নিরিখে বিশ্বে প্রায় এক মাস ধরে শীর্ষে রয়েছে ভারত।সোমবার প্রকাশিত মেডিক্যাল বুলেটিনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯০ হাজার ৮০২ জনের শরীরে মিলেছে করোনাভাইরাস। নতুন সংক্রমণে মোট আক্রান্তের সংখ্য়া হয়েছে ৪২ লাখ ৪ হাজার ৬১৪ জন। এখনও চিকিত্‍‌সাধীন রয়েছেন ৮ লাখ লাখ ৮২ হাজার ৫৪২ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩২ লাখ ৫০ হাজার ৪২৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এখনও পর্যন্ত দেশে সুস্থতার হার ৭৭.৩১%।মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭১ হাজার ৬৪২। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১০১৬ জনের। মৃতের হার ১.৭০ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৭ লাখ ২০ হাজার ৩৬২ জনের কোভিড পরীক্ষা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।এই নিয়ে পর পর দু দিন দেশে একদিনে সংক্রমণ ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেল। বিশ্বের আর কোনও দেশে এখনও অবধি একদিনে ৯০ হাজারের বেশি মানুষের করোনা আক্রান্ত হওয়ার নজির নেই। কিন্তু ভারতের এই ভয় ধরানো পরিসংখ্যানের মধ্যেও আশার আলো জোগাচ্ছে সুস্থতার হার।

এই অবস্থায় ভারতের নিজস্ব ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে। ভারত বায়োটেক ও জাইডাস ক্যাডিলা সেই কাজ করছে। সেগুলি চালু করার উপরেই জোর দেওয়া হচ্ছে। অন্য দেশের কাছ থেকে ভ্যাকসিন নেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।দেশে করোনা পরিস্থিতি চালু হওয়ার পর থেকেই আত্মনির্ভর ভারত গড়ার ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেইমতোই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে সমস্ত মন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সব ধরনের কাজের ক্ষেত্রে প্রথমে দেশীয় সংস্থাকে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনার ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে সেই নির্দেশ মাথায় রেখেই চলা হচ্ছে বলেই কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রের খবর। চলতি বছরের শেষের দিকেই দেশে ভ্যাকসিন চালু করার উপর জোর দিচ্ছে সরকার। ভ্যাকসিন চালু হলে তা বণ্টনের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না, সব প্রস্তুতি রয়েছে বলে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেই দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তারপরই স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল,ভ্যাকসিনের বণ্টনের ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকারই সব ব্যবস্থা করবে রাজ্যগুলির আলাদাভাবে কিছু করার দরকার নেই। ভ্যাকসিন চালু হলে কীভাবে তা দ্রুত দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় বর্তমানে সেই রাস্তা খুঁজতে ব্যস্ত রয়েছে কেন্দ্রীয় ভ্যাকসিন কমিটি। কেন্দ্র আগেই ঘোষণা করেছে যে ভ্যাকসিনের দাম মানুষের আয়ত্তের মধ্যেই থাকবে। ভ্যাকসিন চালু হওয়ার পরে তা খোলা বাজারে নিয়ে আসা হবে কিনা সেই বিষয়টি নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলেই নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর।

ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে শুধুমাত্র সরকারি পরিকাঠামোর মাধ্যমে করোনা ভ্যাকসিন বণ্টন যে দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার সেই বিষয়টি মাথায় রাখা হচ্ছে। ভ্যাকসিন চালুর প্রথম দিকে তা বণ্টনের ব্যবস্থা সরকারিভাবে করা হলেও পরে আর্থিকভাবে সঙ্গতিপন্নরা যাতে তা বাজার থেকে কিনে নিতে পারে, সেই বিষয়টির উপরেও ভ্যাকসিন কমিটি ভাবনাচিন্তা করছে।করোনার ভ্যাকসিন যে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু ভ্যাকসিনের মতই প্রতি বছর নিতে হতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা সদ্য দিন কয়েক আগেই আইসিএমআরের প্রধান বলরাম ভার্গব ইঙ্গিতে বলেছিলেন। দেশে করোনার সংক্রমণ হু হু করে বাড়লেও করোনার মৃত্যু হার যে কম সেই বিষয়টির উপরেই জোর দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার।