গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

35.2 C
Kolkata
35.2 C
Kolkata
More
    Home Lifestyle দুশ্চিন্তায় হাত-পা কাঁপা

    দুশ্চিন্তায় হাত-পা কাঁপা

    0
    32
    ছবি সৌজন্যে : প্রতিনিধিত্বমূলক

    অনেক সময় অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে মনে জন্ম নেয় অজানা ভয়। যে কোনও পরিস্থিতিতেই উদ্বেগ সীমা ছাড়িয়ে যায়। উৎকণ্ঠা এতই বাড়ে যে হাত-পা কাঁপতে শুরু করে দেয়। বুক ধড়ফড় করে। এমনই এক অবস্থার নাম প্যানিক অ্যাটাক। অনেকেই ভোগেন এই সমস্যায়।

    বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে এমন অবস্থা তৈরি হতে পারে। যেমন হঠাৎ করেই কোনও খারাপ খবর শুনলে,পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ দেওয়ার আগে অতিরিক্ত উৎকণ্ঠায়, আবার কোনও কারণে দুশ্চিন্তা হলে। ওদিকে প্যানিক অ্যাটাক অনেক সময়েই এমন মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যে তার থেকে হার্ট অ্যাটাক হতেও দেখা যায়। তাই এই অবস্থা সামলাতে অনেকেই নার্ভের ওষুধ খান, কেউ কেউ নানা রকম থেরাপির মধ্যে দিয়েও যান। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, উদ্বেগ যখন বাড়ে ও লক্ষণগুলি প্রকট হয়, তৎক্ষণাৎ যদি কেউ বক্স ব্রিদিং করে তা হলে শরীর ও মন স্থির হয়। কিছুটা হলেও সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়।পাশাপাশি,প্যানিক অ্যাটাক ঘন ঘন হতে থাকলে, তা চিন্তার বিষয়। যে কোনও পরিস্থিতিতে যদি লক্ষণ দেখা দিতে থাকে তা হলে, সেটি প্যানিক ডিজঅর্ডার-এর পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তাই প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছে, না কি তা ডিজ়অর্ডারের পর্যায়ে চলে গিয়েছে, তা আগে বুঝে নিতে হবে। কাজের অত্যধিক চাপ,কর্মক্ষেত্রে জটিলতা, প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সব মিলিয়ে এই ধরনের উদ্বেগ জন্ম নেয়। খারাপ স্মৃতি কিংবা কোনও অনিশ্চয়তা মনের মধ্যে চেপে বসলেই হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। মাথার মধ্যে ঝিমঝিম করে। অস্থির লাগে। বুক ধড়ফড় করে। অনেকের সারা শরীর কাঁপতে থাকে, দম বন্ধ হয়ে আসে। বুকে ব্যথাও শুরু হয়। এমন লক্ষণ প্রায়ই দেখা দিতে থাকলে সাবধান হতে হবে। অন্যদিকে প্রচণ্ড মানসিক অবসাদ থেকে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের ক্ষরণ বেড়ে গিয়েও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই সে সময়ে শান্ত হয়ে বসে বক্স ব্রিদিং করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এরপর প্রশ্ন হলো,কী ভাবে করবেন বক্স ব্রিদিং? উত্তর হলো,শ্বাসের এক বিশেষ ব্যায়াম যা স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

    চার ধাপে করতে হয়। প্রথমে শ্বাস ছাড়ুন। তার পর ২০ সেকেন্ড স্থির হয়ে বসতে হবে। এর পর গভীর ভাবে শ্বাস টানুন টানা ১০ সেকেন্ড ধরে। শ্বাস ধরে রেখে ৫ গুনুন। তার পর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন আবারও ১০ সেকেন্ড ধরে। এখানে শেষ নয়। শ্বাস ছাড়ার পরে আরও ৫-৬ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখুন। তার পর একবারে শ্বাস ছেড়ে ২০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে আবারও পদ্ধতিটি গোড়া থেকে করুন। অতিরিক্ত উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা কাটাতে শুধু নয়, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কমাতে, মনঃসংযোগ বৃদ্ধিতে ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতেও শ্বাসের এই ব্যায়ামটি করা যেতে পারে।