
শীতের সিজনে বাজারে পাওয়া যায় নানা রকম পুষ্টিকর ফল। এসব ফল যেমন ভিটামিন ও মিনারেলসের ঘাটতি পূরণ করে, তেমনি সিজন পরিবর্তনজনিত রোগ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শীতকালীন এসব ফলের মধ্যে পানিফল অনেকেরই পছন্দের তালিকায় নেই।
অথচ উপকারিতার দিক থেকে এই ফলটি কম নয়।ডায়াবেটিস এডুকেটর ও পুষ্টিবিদদের মতে, পানিফল পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং শরীর সুস্থ রাখতে অনন্য। সাধারণতঃ,পানিফলের আরেকটি নাম শিংড়া। শিংয়ের মতো খাঁজকাটা আকৃতির জন্যই এ নামকরণ হয়েছে বলে মনে করা হয়। গাছ সবুজ হলেও ফলের খোসা কালো, আর ভেতরের শাঁস থাকে সাদা।স্বাদে এটি হালকা মিষ্টি, কষযুক্ত এবং পানসে।খাদ্য উপযোগী ১০০ গ্রাম পানিফলে রয়েছে,জলীয় অংশ ৮৪.৯ গ্রাম, খনিজ ০.৯ গ্রাম, আঁশ ০.৬ গ্রাম, ক্যালরি ৬৫ কিলোক্যালরি, আমিষ ২.৫ গ্রাম, চর্বি ০.৯ গ্রাম, শর্করা ১১.৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১- ০.১৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২- ০.০৫ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন সি ১৫ মিলিগ্রাম।এদিকে,পানিফলের শাঁস শুকিয়ে রুটি বানিয়ে খেলে অ্যালার্জি ও হাত-পা ফোলা কমে।এটি পটাশিয়ামের প্রাকৃতিক উৎস এবং সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকায় স্ট্রোক ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।শরীর ঠাণ্ডা রাখতে এবং টক্সিন দূরীকরণে দারুণ কার্যকর। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় কোষ মেরামত ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।এতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল গুণ। এমনকি অ্যান্টি–ক্যান্সার হিসেবেও কাজ করতে পারে পানিফল।তাছাড়া,হজম সমস্যা, বমিভাব, গ্যাস্ট্রিক ও আইবিএস কমাতে সহায়ক। উচ্চ ফাইবার থাকার কারণে পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে ওজন কমাতেও সহায়তা করে।রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে, তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্যও উপকারী।
এর বাইরে, অনিদ্রা, দুর্বলতা, সর্দি, ব্রংকাইটিস ও অ্যানিমিয়া উপশমে উপকারী ভূমিকা রাখে। ত্বক উজ্জ্বল রাখা ও চুল মজবুত করতেও পানিফল কার্যকর। শীতকালে সহজলভ্য এই ফলের নিয়মিত ও সঠিক গ্রহণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
