পঞ্চাশ পেরলে কোন টিকা

0
106
ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল 

মার্চ মানেই শীতের শেষ, আর বসন্তের আগমনী হাওয়া। অনেকেই ভাবেন, গরম পড়ছে এখন আর ভ্য়াকসিনেশন বা টিকাকরণের তেমন প্রয়োজন নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বয়স ৫০ পেরলেই বিষয়টি অন্যরকম। ঋতু বদলের সময় সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়ে।

আর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়। ফলে আগে যে সব সংক্রমণ সামান্য ভোগাত, এখন সেগুলোই গুরুতর রূপ নিতে পারে। চিকিৎসকদের কথায়, ৫০ বছর বয়সের পর সংক্রমণঘটিত কোনও অসুখ হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট, হৃদ্‌রোগজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। তাই এই বয়সে নিয়মিত টিকাকরণ নিজেকে সুরক্ষিত রাখে এবং বজায় রাখে সক্রিয় জীবনযাপন।যেমন মার্চেও ফ্লু ছড়াতে পারে। এখনও যদি এই টিকা না নিয়ে থাকেন, তাহলে দেরি করবেন না। বিশেষ করে বয়স যদি ৬৫ বছরের গণ্ডি পেরিয়ে যায়।ওদিকে,কোভিড এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। তবে পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। আপডেটেড বুস্টার ডোজ গুরুতর অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমায়। যাঁদের ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা ক্রনিক ডিজিজ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ।আবার আরএসভি,রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস বয়স্কদের ক্ষেত্রে ফুসফুসের গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। ৫০ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে যাঁদের হৃদ্‌রোগ বা ফুসফুসের ক্রনিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই টিকা বিশেষ উপকারী। ৭৫ বছরের বেশি বয়সে প্রায় সবারই এটি নেওয়া উচিত।তারপর, টিড্যাপ বা টিডি বুস্টার।টিটেনাস, ডিফথেরিয়া ও পার্টুসিস থেকে সুরক্ষার জন্য প্রতি ১০ বছরে একবার বুস্টার প্রয়োজন। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় যদি কখনও টিড্যাপ না নিয়ে থাকেন, এখনই নিয়ে নিন।অন্যদিকে,ছোটবেলায় চিকেনপক্স হয়ে থাকলেও হারপিস হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। জোস্টার টিকা হারপিস প্রতিরোধে ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর। এটি শুধু সংক্রমণই কমায় না, পরবর্তী সময় দীর্ঘস্থায়ী স্নায়বিক ব্যথাও অনেকাংশে প্রতিরোধ করে।এছাড়া,নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক জীবাণুর বিরুদ্ধে এই টিকা সুরক্ষা দেয়। আগে নিউমোনিয়া ছিল পঞ্চাশোর্ধ্বদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। তাই এই টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আর শেষে,এমএমআর অর্থাৎ হাম, মাম্পস, রুবেলা। ১৯৫৭ সালের পর জন্মানো এবং ছোটবেলায় টিকাকরণের তথ্য অজানা বা ভুলে গেছেন, এমন ব্যক্তিদের জন্য এমএমআর টিকা নেওয়া উচিত। বর্তমানে হাম আক্রান্তের ঘটনা বাড়ায় সুরক্ষিত থাকা জরুরি। প্রয়োজনে রক্তপরীক্ষা করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জানা দরকার।এখন,স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র, এমনকি অনেক ফার্মেসিতেও একসঙ্গে একাধিক টিকা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যে কোনও টিকা নেবার আগে অবশ্য়ই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। ভুল তথ্যের ভিড়ে না গিয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস বেছে নেওয়াই ভাল।

আর,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আর কী করবেন?  মাথায় রাখতে হবে টিকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একমাত্র ভরসা নয়। সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ,এগুলোও কিন্তু সমান গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্বাস্থ্যপরীক্ষা যেমন, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, সুগার পরীক্ষা ইত্য়াদি জরুরি। সব মিলিয়ে, বয়স ৫০ পেরলেই সচেতনতা বাড়ানো দরকার। একটু আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে, আগামী দিনগুলো আরও সুস্থ ও সুন্দর হতে পারে।