
তেল ছাড়া রান্না চলে না,ভাজা হোক বা ঝাল-তরকারি,যে কোনো কিছু রান্না করতে গেলে তেলের প্রয়োজন পড়েই।কিন্তু অত্যধিক তেল কখনোই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়।
তেলের পরিমাণের পাশাপাশি তেলের গুণগত মান নিয়েও সাবধান থাকা দরকার।এদিকে বাজারে প্যাকেটজাত বা বোতলজাত তেলের পাশাপাশি অনেক ধরনের খোলা তেল পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে,এগুলো তৈরি হয় যেমন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তেমনি খাওয়াও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। তাই স্বাস্থ্যের ভালোর জন্য বোতলজাত তেলের ওপর ভরসা করতে হয়।তবে বাজারে বিভিন্ন ধরনের তেল রয়েছে।কোন তেলের রান্না খেলে কী উপকার হবে বা এসব তেলের গুণাগুণ কী,তা অনেকেই জানেন না। এখন প্রশ্ন হলো কোন তেল স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু উপকারী।উত্তর হলো,রান্নায় আপনি সরিষার তেল ব্যবহার করতেই পারেন।এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আবার ভারতীয় উপমহাদেশে রান্নায় ঘিয়ের ব্যবহার বহুকাল আগে থেকেই হয়ে আসছে।ঘিয়ের মধ্যে দ্রবণীয় ফাইবার, ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে রয়েছে।ঘি স্বাস্থ্য ও ত্বকের জন্য উপকারী এবং হার্টের জন্যও উপযোগী।সাদা তেলের থেকে অনেক বেশি উপযোগী বাদাম তেল। ভাজাভুজি রান্নায় এই বাদাম তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।তাছাড়া নারকেল তেলে তৈরি রান্না বাঙালিরা খুব বেশি খান না।তবে দক্ষিণ ভারতে এই তেলের ব্যবহার বেশি। স্বাস্থ্যের জন্য আপনিও নারকেল তেলে তৈরি খাবার খেতে পারেন। বিশেষতঃ বেকিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন নারকেল তেল। এর বাইরে তিলের তেল দিয়েও রান্না করা যেতে পারে। ডাল, তরকারিতে ফোড়ন দেওয়ার সময় তিলের তেল ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া সূর্যমুখী তেল দিয়ে ভাজাভুজি, তরকারি রান্না করতে পারবেন। অন্যদিকে,হার্ট অ্যাটাক, আর্থাইটিস, স্তন ক্যান্সার, কোলোরেক্টাল ক্যানসার, জরায়ু ক্যান্সার থেকে শুরু করে কোষ্ঠকাঠিন্য, গলব্লাডারে সমস্যা, মাইগ্রেনের সমস্যা প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের রোগ নিরাময়ে অলিভ অয়েলের ভূমিকা প্রচুর। পাশাপাশি,সূর্যমুখী তেলে রয়েছে কোলিন ও ফেনোলিক অ্যাসিড, যা হৃদরোগ প্রতিরোধ করে।
ভিটামিন ই এর সমৃদ্ধ উৎস এই তেল।এই ভিটামিন হলো এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা মানবদেহের মধ্যে ফ্রি র্যাডিকেলস ছড়াতে বাধা দেয়। ফ্রি র্যাডিকেলগুলো হলো সেই বিপজ্জনক অণু, যা শরীরের সব ভালো অণুগুলোকে আক্রমণ করে, যেগুলো শরীরের অপরিহার্য ক্রিয়াকলাপের ওপর কাজ করে।









