
ডিটক্স ওয়াটার বর্তমান সময়ের এক জনপ্রিয় পানীয়।অনেকেই মনে করেন, এটি পান করলেই শরীর পরিষ্কার হয়ে যায়। অর্থাৎ, শরীর থেকে দ্রুত টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়, সুস্থ থাকা যায়।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।শরীরের নিজস্ব ডিটক্স সিস্টেম হলো লিভার ও কিডনি। এই অঙ্গগুলো প্রতিনিয়তই শরীর থেকে স্বাভাবিকভাবে বর্জ্য ও টক্সিন দূর করে। কোনো বিশেষ পানীয় এই প্রক্রিয়াকে আলাদা করে দ্রুত করতে পারে না।তবে ডিটক্স ওয়াটার একেবারেই অকার্যকর পানীয়ও নয়।এটি মূলত সাধারণ জলের মধ্যে নানা ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান ভিজিয়ে তৈরি করা একটি ভিন্ন স্বাদ ও সুগন্ধীযুক্ত পানীয়। লেবু, শসা, আদা, পুদিনা, স্ট্রবেরি, কমলা, আপেল, বিটরুট, দারচিনি, লং, ব্লুবেরি, রোজমেরি, তরমুজ ইত্যদির মতো বিভিন্ন উপাদান এতে ব্যবহার করা হয়। এসব পানীয় দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি খেতেও বেশ ভালো লাগে।ঘরে এটি বানানোও খুব সহজ।একটি জগে জল নিতে হবে। এরপর পছন্দের ফল বা ভেষজ উপাদান কেটে সেই জগের জলেতে দিয়ে ১ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ফ্রিজে রাখা হয়। এই সময়ের মধ্যে জলেতে সেসব ফল বা ভেষজের স্বাদ ও গুণ মিশে যায়। পরে ফল বা উপাদানগুলো সরিয়ে ফেলে পান করতে হয়।এদিকে ডিটক্স ওয়াটার মূলত জনপ্রিয় হয়েছে ওজন কমানোর জন্য।কারণ এটি চিনিযুক্ত কোমল পানীয় বা জুসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ক্যালরি খুব কম থাকে, তাই যারা ডায়েট করেন তাদের কাছে এটি বেশ আকর্ষণীয়। গবেষণাও বলছে, পর্যাপ্ত জল পান ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। জল সাময়িকভাবে মেটাবলিজম বাড়াতে পারে, ক্ষিদে কমাতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণ কমায়।শুধু ওজন কমানো নয়, জল হজম প্রক্রিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত জল না পেলে অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। নিয়মিত জল পান করলে খাবার সহজে হজম হয় এবং অন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করে। সাম্প্রতিক গবেষণাতেও দেখা গেছে, বেশি জল পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকিও কমে।এ ছাড়া শরীরে জলের অভাব মানসিক অবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে। সামান্য জল শূন্যতাও মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং মেজাজ খারাপের কারণ হতে পারে। ওদিকে,ডিটক্স ওয়াটার নিয়ে আরো কিছু বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন ধারণা প্রচলিত রয়েছে। যেমন এটি শরীরের পিএইচের ভারসাম্য পরিবর্তন করে বা ত্বককে দ্রুত উজ্জ্বল করে,এসব ধারণা প্রমাণিত নয়। একইভাবে এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়,এমন কথাও ভুল। ত্বকের উজ্জ্বলতা বা স্বাস্থ্য মূলত নির্ভর করে সামগ্রিক জীবনধারা, ঘুম, খাবার ও জলের ওপর।
আরেকটি বিষয় হলো পুষ্টিগুণ। এতে ব্যবহৃত ফল ও সবজিতে ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকলেও জলেতে ভিজিয়ে রাখার ফলে তার পরিমাণ খুবই কম থাকে। তাই এটি পুষ্টির বড় উৎস নয়, বরং ভিন্ন স্বাদ ও সুগন্ধীযুক্ত জল হিসেবেই বেশি কার্যকর।









