
আস্তে আস্তে খাও, মনোযোগ দিয়ে খাও, খাওয়ার সময় কথা কম বলো,শৈশবে এ ধরনের পরামর্শ প্রায় সবাই পেয়েছেন।সেই সময় এসব কথা অনেকের কাছে বিরক্তিকর লাগলেও, আজ তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য।
ধীরে ও মনোযোগ দিয়ে খাওয়া শুধু আচরণগত নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।এদিকে,খাদ্য ও পুষ্টিবিদরা ধীরে খাওয়া এবং দ্রুত খাওয়ার প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন।গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু সময় নিয়ে খাওয়ার মাধ্যমেই শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।যেমন,খাবার গ্রহণের সময় একজন মানুষ কতটা ধীরে বা দ্রুত খাচ্ছেন তা বোঝার সহজ একটি উপায় হলো ২০ মিনিট থিওরি।আমাদের পাকস্থলী খাবারে পরিপূর্ণ হলে সেটার সংকেত মস্তিষ্কে পাঠাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। এর আগে আমরা বুঝতেই পারি না পেট কতটা ভরেছে।এখানে সমস্যা হলো,যদি কেউ ২০ মিনিটের কম সময়ে খাবার শেষ করে ফেলেন, তাহলে মস্তিষ্কে পূর্ণতার সংকেত পৌঁছানোর আগেই অনেক বেশি খেয়ে ফেলেন। এতে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হয় এবং পরে শরীরে ভারী লাগতে পারে।এই অবস্থায় ধীরে খেলে,খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া যায়,হজমের প্রক্রিয়া সহজ হয়,কম খাবারেই তৃপ্তি আসে, সেইসঙ্গে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।এখন প্রশ্ন হলো,দ্রুত খাওয়ার কারণ কী? উত্তর হলো
দ্রুত খাওয়ার অন্যতম কারণ হলো ব্যস্ততা বা সময়ের অভাব। কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেই দ্রুত খাবার খেয়ে কাজ সেরে নিতে চান।এছাড়া মানসিক চাপ, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা কঠোর ডায়েটের কারণে অতিরিক্ত খিদে জমে গিয়ে দ্রুত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।কিন্তু এই তাড়াহুড়া করে খাওয়ার ফলে খাবারের স্বাদ উপভোগ করা যায় না। বরং হজমের সমস্যা, গ্যাস, ভারী ভাব ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়।
সেইজন্যে,ধীরে ও মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস শুধু শারীরিক নয়, মানসিক সুস্থতার সঙ্গেও জড়িত। তাই যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, প্রতিদিনের খাবারের সময়টুকু নিজের শরীর ও মনের জন্য বরাদ্দ করুন।
