দিনে কতটুকু দুধ খাবেন

0
143
ছবি সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল

মানুষের জন্য খুবই পুষ্টিকর একটি খাবার হচ্ছে দুধ। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সব কিছুই থাকে এই খাবারে। একটি শিশু শুধু মায়ের দুধ পান করলেই ছ মাস বেঁচে থাকে। যদি খাঁটি দুধ হয়, তাহলে মাত্র ২৫০ গ্রাম দুধে ৮.১৪ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।

একই সঙ্গে ১২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১২ গ্রাম চিনি ও ৮ গ্রাম ফ্যাট পাওয়া যায়।প্রাপ্তবয়স্ক হলেও মানুষ নিয়মিত গরু বা মহিষের দুধ পান করে। কারণ দুধ ক্যালসিয়ামের একটি বড় উৎস। এটি হাড়কে শক্তিশালী করে।২৫০ গ্রাম দুধে ১৫২ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু দুধ সবার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার নয়। কারণ এটি অনেকেরই হজমের সমস্যা তৈরি করে।বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেকেরই দুধে অসহিষ্ণুতা রয়েছে।অর্থাৎ দুধ হজম করার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো অনেকের অন্ত্রে কম থাকে। দুধে ল্যাকটোজ নামক একটি চর্বি থাকে। এটি হজম করার জন্য অন্ত্রে ল্যাকটেজ নামক এনজাইম থাকে।একইভাবে দুধও কেসিন নামক একটি এনজাইম দ্বারা হজম হয়। বেশির ভাগ মানুষের ল্যাকটেজ ও কেসিন এনজাইমের অভাব থাকে।কিছু লোকের মধ্যে এগুলো একেবারেই থাকে না। জিনের বিভিন্ন রোগের কারণে বেশির ভাগ মানুষের অন্ত্রে এই এনজাইমগুলো থাকে না এবং এর কারণে যখন দুধ অন্ত্রে যায়, তখন এটি সঠিকভাবে হজম হয় না।অনেকেরই দুধ হজম না হলে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে পাচনতন্ত্রের ওপর। এর সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো পেট ফুলে যাওয়া। এর সঙ্গে প্রচুর ঢেকুর ওঠে,পেটে প্রচুর গ্যাস তৈরি হয়। খাবার খাওয়ার পর কারো কারো পেটে ব্যথা হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে। এটি যদি কয়েকদিন ধরে একটানা চলতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে দুধের কারণেই এমনটা হচ্ছে।বর্তমানে দুধে নানাভাবে ভেজাল মেশানো হচ্ছে। দুধে যদি শুধু জল থাকে তাহলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যখন দুধে ইউরিয়ার মতো রাসায়নিক মেশানো হয়, তখন তা অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে। কৃষকরা গরু-মহিষের দুধ অক্সিটোসিনের মতো ইনজেকশন দিয়ে বের করে। অক্সিটোসিন হলো একটি হরমোন, যা দুধের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যখন এটি মানুষের শরীরে পৌঁছায়, তখন শরীরে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হরমোন নষ্ট হতে শুরু করে। এর ফলে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। সেইসঙ্গে দুধ কোন সময় খাচ্ছেন এবং কতটুকু, তা জানা জরুরি। অনেকেই দুধ সকালে খেয়ে ফেলেন, তারপরও গলা-বুক জ্বালা শুরু হয়। যাদের অম্বলের সমস্যা রয়েছে, তাদের সকালে দুধ না খাওয়াই ভালো। বরং খেতে হবে রাতে। সে ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা দুধ খেলেই উপকার বেশি পাওয়া যাবে।শিশুদের জন্য আবার দুধ খাওয়ার আদর্শ সময় হলো সকালবেলা। তবে রাতে ঘুমানোর আগে দুধ খেলে অনিদ্রার সমস্যা যেমন দূর হয়, তেমনই শরীর অনেক বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে।একজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা দিনে ২-৩ কাপ দুধ খেতেই পারেন, তার থেকে বেশি নয়। একজন পুরুষ সেখানে ৩-৪ কাপ দুধ খেতে পারেন। তবে দুগ্ধজাত দ্রব্য, যেমন পনির, ছানা হলে দিনে ২ কাপের বেশি খাওয়া যাবে না।শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিমাপ আলাদা। ১২ থেকে ২৪ মাসের শিশু দিনে ২-৩ কাপ দুধ খেতে পারে। ২ থেকে ৫ বছরের শিশুকে দিনে দুই থেকে আড়াই কাপের বেশি দুধ খাওয়ানো যাবে না। আবার ৫ থেকে ৮ বছর বয়সের শিশুরাও দিনে আড়াই কাপের মতো দুধ খেতে পারে। ৯ বছরের ওপরে দিনে তিন কাপের মতো দুধ খাওয়া যেতেই পারে।পাশাপাশি যদি গরুর দুধে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে উদ্ভিদজাত দুধ খাওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের বাদাম, ওট্‌স, নারকেল ও সয়াবিন থেকে এই দুধ পাওয়া যায়।

আমন্ড মিল্ক, কোকোনাট মিল্ক, ওট্‌ মিল্ক ও সয়া মিল্ক সবচেয়ে পরিচিত। প্রাণিজ দুধের বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া যেতে পারে এসব দুধ। তবে শিশুদের দুধ খাওয়ানোর আগে দেখে নিতে হবে, তারা দুধ হজম করতে পারছে কি না। যদি দুধ খেলেই বমি ভাব আসে অথবা অম্বলের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দুধ না খাওয়াই ভালো।