
প্রোটিন হল আমাদের শরীরের পেশি গঠন ও মেরামতের মূল উপাদান। হরমোন ও এনজাইম তৈরি থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, সবেতেই প্রোটিন অত্যন্ত জরুরি।
শুধু তাই নয়। পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাবে শরীর ভেঙে পড়তে পারে। তাই প্রতিদিন খাবার পাতে প্রোটিন রাখতেই হয়। কিন্তু ঠিক কতটা রাখবেন?বিভিন্ন গবেষণা তথ্য মতে, যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৪০ গ্রাম প্রোটিন দরকার পড়ে। কিন্তু এই পরিমাণের অতিরিক্ত হলেই বিপদ,সেক্ষেত্রে প্রোটিন ভাঙলে রক্তে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বাড়ে। এই অতিরিক্ত নাইট্রোজেন প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করার জন্য কিডনিকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করতে হয়। দীর্ঘকাল ধরে এই অতিরিক্ত চাপ কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে বা ক্ষতি করতে পারে।ডিহাইড্রেশন হতে পারে। কিডনি যখন অতিরিক্ত নাইট্রোজেন অপসারণ করে, তখন শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল বেরিয়ে যায়। ফলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান না করলে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা বাড়তে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যা হতে পারে।উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাদ্যে প্রায়শই ফাইবারের পরিমাণ কম থাকে। ফাইবার কম থাকার কারণে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস বা বদহজমের মতো পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে।আসলে শরীরের প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বেশি প্রোটিন গ্রহণ করলে অতিরিক্ত প্রোটিন চর্বি হিসেবে জমা হয়। বিশেষ করে রেড মিট বা উচ্চ ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত প্রোটিন বেশি খেলে ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যায় এবং সময়ের সাথে সাথে ওজন বৃদ্ধি হতে পারে। হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত প্রোটিনের উৎস হিসেবে যদি ঘন ঘন লাল মাংস এবং উচ্চ ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া হয়, তবে তা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল-এর মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।








