ওটস কিভাবে খাবেন

0
142
ছবি সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল

পুষ্টি উপাদানে ভরপুর একটি স্বাস্থ্যকর শস্য হচ্ছে ওটস। এটি শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। দুধের সঙ্গে ওটসের মিশ্রণ একদিকে যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টি সরবরাহ করেও অনেক বেশি। যেমন ধরুন, স্টিল কাট ওটস, এই ধরনের ওটস কম প্রক্রিয়াজাত।

এগুলো ছোট স্টিলের ব্লেড দিয়ে কাটা হয়। এগুলো পোরিজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলোকে আরো স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়। তারপর,স্টিল কাট ওটসগুলোকে স্টিম করে রোল করে চ্যাপ্টা ও নরম করা হয়।এগুলো স্মুদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, ইনস্ট্যান্ট ওটস সবচেয়ে বেশি প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যাতে প্রিজারভেটিভ এবং অন্যান্য কিছু জিনিস যোগ করা হয়। এগুলো দ্রুত রান্নার জন্য ব্যবহৃত হয়। এদিকে,ওটসে বিটা গ্লুকন নামে একটি বিশেষ ধরনের দ্রবণীয় ফাইবার থাকে। এই ফাইবার জল শোষণ করে রাখে। ফলে পেট ভরা লাগে এবং অতিরিক্ত খাওয়া কমানো যায়।এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজমশক্তি উন্নত করে। এ ছাড়া বিটা গ্লুকোন কোলেস্টেরল কমাতে এবং হৃদরোগের উন্নতিতে সহায়ক। পাশাপাশি,ওটসের পুষ্টিগুণ ক্যালরির চেয়ে অনেক বেশি।এতে প্রোটিন, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্কের মতো অনেক প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ৩০ গ্রাম ওটসে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি বেশি থাকে, যার কারণে এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে। অন্যদিকে,অনেকের গ্লুটেনে অ্যালার্জি থাকে, যা পাউরুটি ও পাস্তার মতো উচ্চ গ্লুটেনযুক্ত খাবারে পাওয়া যায়। ওটস গ্লুটেন মুক্ত এবং যারা গ্লুটেনের প্রতি অ্যালার্জিযুক্ত বা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প। সব মিলিয়ে ওটস থেকে অনেক মিষ্টি ও সুস্বাদু খাবার সহজেই তৈরি করা যায়।পাশাপাশি ওটসে প্রতিরোধী স্টার্চ থাকে, যা অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে একত্রিত হয়ে ছোট ফ্যাটি অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়। এটি কোলনকে সুস্থ রাখে, হজমশক্তি উন্নত করে, চিনি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। প্রতিরোধী স্টার্চ পাওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো ওটস রাতভর ভিজিয়ে রাখা।

এর বাইরে,ওটস থেকে অনেক ধরনের খাবার তৈরি করতে পারেন। যেমন কুকিজ, গ্রানোলা বার, স্মুদি, পোরিজ ইত্যাদি। এটি দ্রুত রান্না হয় এবং শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই সহজেই খেতে পারে। এটি বাজারে সহজেই এবং কম দামে পাওয়া যায়।সব মিলিয়ে,ওটস ব্রেকফাস্ট বা ডিনারে খাওয়া যেতে পারে। ওটস খাওয়ার পরে যদি  ঘুম পায়, তাহলে ডিনারে খেতে পারেন।