
এখন যা অবস্থা তাতে সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে চোখ বন্ধ করার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত ফোনে মুখ গুঁজে খুটখাট, টুকটাক আওয়াজ চলতেই থাকে। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে কমবেশি সকলেই দিনের বেশ খানিকটা সময় মোবাইলে চোখ রেখে বসে থাকেন।
এখন সরাসরি বলা হচ্ছে,এই অভ্যাস কিন্তু মনের পাশাপাশি শরীরেরও ক্ষতি করে।দেখা যাচ্ছে,চিকিৎসকদের কাছে যে রোগীরা যান, তাঁদের অধিকাংশই পিঠে ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা, গাঁটে ব্যথা কিংবা হাতের ব্যথায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের আশঙ্কা অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারই এই সমস্যার মূলে।আসলে দিনের অনেকটা সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে হাতের পেশি ও লিগামেন্টের উপর চাপ পড়ে। দীর্ঘ দিন এমনটা হতে থাকলে সেই ব্যথা মেরুদণ্ডের উপরেও প্রভাব ফেলে।মেরুদণ্ড বেঁকেও যেতে পারে। অনেকেই আবার এই উপসর্গগুলিকে বাতের ব্যথার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন।এখন প্রশ্ন হল,পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে কী কী সতর্কতা নিনে হবে? প্রথমেই মোবাইলে মেসেজ করার পরিমাণ কমাতে হবে। প্রয়োজনে ফোনে কথা বলুন।তার সঙ্গে মোবাইল কেনার সময়ে লক্ষ রাখবেন মোবাইলটি যেন খুব ভারী না হয়।ভারী মোবাইল হাতে থাকলে পেশির উপর বেশি চাপ পড়ে। তাই কেনার আগে মোবাইলের ক্যামেরা, মেমরির পাশাপাশি গ্যাজেটের ওজনের দিকেও নজর রাখতে হবে।সম্ভব হলে একটি মোবাইল স্ট্যান্ড কিনতে পারেন। তার উপর মোবাইলটি রেখে ব্যবহার করলে সমস্যা কম হবে।এরপর ফোন ব্যবহারের সময়ে ঘাড় নিচু বা বাঁকা করে না তাকিয়ে বরং ঘাড় সোজা রেখে ফোনটা চোখ বরাবর নিয়ে আসুন।এতে মাথা ও ঘাড়ের উপর চাপ কম পড়বে।
পাশাপাশি কয়েকটি ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ় করতে পারেন। মেরুদণ্ডের সংলগ্ন পেশি সচল রাখতে নিয়ম করে কিছু যোগাসন করতেই হবে।তবে যাঁদের ঘাড়, কোমর বা পিঠে খুব ব্যথা, তাঁরা এক বার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক চিকিৎসা, ফিজিয়োথেরাপি ও আসন শুরু করুন।
