
মানুষের জীবন দিন দিন নির্ভরশীল হয়ে উঠছে স্মার্টফোনের ওপর। অধিকাংশ স্মার্টফোনই চলে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে, আর এতে আছে ওপেন ইকোসিস্টেম। এর ফলে এতে অসংখ্য থার্ড-পার্টি অ্যাপ ইনস্টলের অনুমতি মেলে।
আর, এর ফলে ফোনে ম্যালওয়্যার প্রবেশ সহজ হয়ে ওঠে। এদিকে ম্যালওয়্যার হল এমন সফটওয়্যার যা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও ডিভাইসের ক্ষতি করতে, ব্যাঘাত ঘটাতে বা অননুমোদিত অ্যাক্সেস পাওয়ার জন্য নকশা করা হয়। এটি ইউজারের তথ্য চুরি করতে, বিভিন্ন কাজের ওপর নজর রাখতে, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফোনে তথ্য স্প্যাম করর জন্যও ব্যবহার করা হতে পারে।ম্যালওয়্যার সাধারণত সংক্রামিত অ্যাপ, ওয়েবসাইট, এমনকি ইমেইলে আসা অ্যাটাচমেন্ট ফাইল থেকে ডিভাইসে আসে। ম্যালওয়্যার আর ভাইরাস একইরকম মনে হলেও পার্থক্য আছে। সহজ ভাষায়, সব ভাইরাসই ম্যালওয়্যার, কিন্তু সব ম্যালওয়্যার ভাইরাস নয়। এই অবস্থায় কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই যদি ফোনের ব্যাটারির আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়,তাহলে এর অর্থ হতে পারে ফোন সারাক্ষণ কোনো কাজ করছে।এই কোনো কাজটি হতে পারে ম্যালওয়্যার সংশ্লিষ্ট। এসব সফটওয়্যার প্রায়ই ফোনের ব্যকগ্রাউন্ডে কিছু অ্যাপ চালায় যা অনেক চার্জ খরচ করে। ফোন ব্যবহার না করলেও এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে, ফলে অস্বাভাবিক হারে ব্যাটারি কমে যায়। আবার অস্বাভাবিকভাবে ধীরগতির বা প্রযুক্তি জগতের কথ্য ভাষায় বার বার,হ্যাং হতে থাকা ফোনটিও ম্যালওয়ারের লক্ষণ হতে পারে। সাধারণত অনেক পুরনো ফোন চালালে এমন হলেও, ম্যালওয়্যারও এর অন্যতম বড় কারণ।অন্যদিকে,অনেক বেশি ব্যবহারে ফোন গরম হওয়া স্বাভাবিক।তবে, ক্রমাগতভাবে অতিরিক্ত গরম হওয়া,বিশেষ ফোন তেমন ব্যবহার না করলেও গরম হওয়া ম্যালওয়্যারের কাজের সংকেত হতে পারে।ক্ষতিকারণ এসব সফটওয়্যার ফোনের ব্যকগ্রাউন্ডে চলাকালীন প্রসেসরে চাপ ফেলে। এ কারণে ফোন ব্যবহার না হলেও অনেক সময় অতিরিক্ত গরম হয়।এর মধ্যে হঠাৎ করেই ফোনে নতুন নতুন অ্যাপ চোখে পড়ছে,যা নিজে ইনস্টল করেননি? এটি খারাপ লক্ষণ, অনেক সময়ই অবৈধ অ্যাপ ও অ্যাপস্টোরের মাধ্যমে ডিভাইসে প্রবেশ করতে পারে ম্যালওয়ার।
আনঅথোরাইজড সাইট থেকে কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করলে ইউজারের অনুমতি ছাড়াই অনাকাঙ্ক্ষিত অ্যাপ ইনস্টল হয়ে যেতে পারে। আর এতে ক্ষতি হবে ডিভাইসেরই।অ্যাপ বা অ্যাপ স্টোর ছাড়াও, অন্যান্য অননুমোদিত ডাউনলোড সাইড থেকে এসব ম্যালওয়্যার ফোনে প্রবেশ করতে পারে।
