অভিনয় ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে : মনোজ

0
16
ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল 

অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী, দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য প্রশংসিত চরিত্র উপহার দিয়েছেন। তবে সফলতার শিখরে পৌঁছেও মাঝে মাঝে অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছেন তিনি। 

সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন এবং না-পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা।পডকাস্টে মনোজ জানিয়েছেন, গত এক দশক ধরে মাঝেমধ্যেই অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার চিন্তা এসেছে তার মনে। তবে নতুন কোনো চরিত্রের প্রতি আকর্ষণই তাকে বারবার ফিরিয়ে এনেছে অভিনয়ে।তিনি বলেছেন, সত্যি বলতে কি, প্রায় ১০ বছর ধরে মাঝে মাঝেই আমার অভিনয় ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করেছে। কিন্তু তারপর একটা নতুন চরিত্র আসে, আর আমি চলে যাই। তাই, আমি বাধ্য হয়ে অভিনয় করি না যে, আমাকে ঘরে খাবার আনতে হবে বা অন্য কোনো প্রয়োজন মেটাতে হবে। আমি সে জন্য অভিনয় করতে চাই না। আমি অভিনয় করতে চাই কারণ আমি একটি চরিত্রকে উপভোগ করব, আমি এই কথাটা আপনার শো-তে প্রথমবার বলছি। আজকাল, আমি সত্যিই একটা বাণিজ্যিক সিনেমার জন্য আকুল হয়ে আছি। আমি জানি না কেন, যদিও আমি অনেকদিন দূরে ছিলাম। ফালতু কমেডি, গানের সঙ্গে কিছু নাচ। আপনাকে প্রস্তুত হয়ে বাড়ি ফিরতে হবে না, আপনি শুধু বিদায় জানিয়ে চলে যান। আপনি কী করছেন তা না ভেবেই। আলোচনায় তিনি বর্তমান সময়ের কনটেন্ট নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, দর্শক ও নির্মাতারা আবারও মৌলিক গল্পের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে সাফল্যের জন্য যে ব্যক্তিগত মূল্য দিতে হয়েছে, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী।মনোজ বলেছেন, পেছনে ফিরে তাকালে দেখি, আমি অনেক কিছু হারিয়েছি। আমি আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে পারিনি। তারা যখন মারা গেলেন, আমরা একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করছিলাম। আমি কখনো তদের সঙ্গে থাকিনি। আমরা এতটাই দূরে চলে গিয়েছিলাম যে আর বুঝতেই পারতাম না। প্রথমে আমি একটি বোর্ডিং হাউসে থাকতাম। আমরা গ্রামের মানুষ ছিলাম, তাই আমাদের বোর্ডিং হাউসে রাখা হতো। এরপর অভিনেতা হওয়ার জন্য আমি দিল্লিতে আসি। দিল্লিতে অনেক কিছু শিখেছি। ইংরেজি শিখেছি ,শহরের পরিবেশটা চিনেছি। আমাকে প্রতিদিন খাবারেরও ব্যবস্থা করতে হতো।অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী জানিয়েছেন, জীবনের কঠিন সময়ে বন্ধুদের সহায়তাই তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

কর্মজীবনের ব্যস্ততা এবং স্বপ্নপূরণের লড়াইয়ে ধীরে ধীরে পরিবার থেকে দূরে সরে যান তিনি। যোগাযোগ সীমাবদ্ধ ছিল মূলত চিঠি এবং মাঝে মধ্যে ফোনালাপে।