
আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার কয়েক মাস পরও ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্য কোনও পরিবর্তন পায়নি রাষ্ট্রসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ,আইএইএ।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো সংস্থাটির শেষ গোপন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে,ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করার পর এটিই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আইএইএ’র প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন। রিপোর্টে সংস্থাটি আবারও তেহরানের কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের অবস্থান সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছে, যার একটি অংশের হিসাব প্রায় এক বছর ধরে পাওয়া যাচ্ছে না। আইএইএর মতে, গত বছরের আমেরিকা-ইসরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের প্রধান কয়েকটি পরমাণু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে নিম্নমাত্রায় ও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশের অবস্থান যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে,মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করেছেন যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করাই সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।
তবে আইএইএ’র শেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, যুদ্ধ ও বিমান হামলার পরও সংস্থাটির পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণের তুলনায় বড় ধরনের কোনও পরিবর্তন শনাক্ত হয়নি।অন্যদিকে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনার অন্যতম প্রধান অচলাবস্থার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চায় ইরান সম্পূর্ণভাবে এ মজুদ ত্যাগ করুক। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর দিকে কেন্দ্রীভূত, যেখানে পরমাণু ইস্যুগুলো পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হতে পারে।
