
বর্তমানে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পুরু বরফের চাদরে ঢাকা পৃথিবীর দক্ষিণতম মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা কিন্তু চিরকাল এমন ছিল না।
প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ বছর আগে এ অঞ্চলটি ছিল বেশ নাতিশীতোষ্ণ ও সবুজ গাছপালায় ভরপুর। অন্যদিকে, পৃথিবীর উত্তর মেরু তথা আর্কটিক অঞ্চল এর আরও আড়াই কোটি বছর পর পর্যন্ত বরফে ঢাকা পড়েনি।দুই মেরুর বরফ জমার এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান বা অসমতা বিজ্ঞানীদের দীর্ঘকাল ধরে ভাবিয়ে তুলেছিল। এখন এ প্রাচীন রহস্যের সমাধান খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা।বিজ্ঞানীরা অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলের টপোগ্রাফি বা ভূসংস্থান গভীরভাবে মূল্যায়ন করে কোটি কোটি বছর ধরে এই ভূপৃষ্ঠ কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে তা পুনর্নির্মাণ করতে কম্পিউটার মডেলের সাহায্য নিয়েছেন।জানা যাচ্ছে,শক্তিশালী এক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার কারণে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার এক পর্বতমালা নতুন করে ওপরের দিকে উত্থিত হতে শুরু করে। একপর্যায়ে পর্বতটি এমন এক উচ্চতায় পৌঁছায়, যা পাহাড়ের চূড়ায় হিমবাহ তৈরি এবং এর বিস্তৃতি ও স্থায়ীভাবে বরফ জমে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।সে সময় আজকের তুলনায় বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা প্রায় ৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।এ সময়ই পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার বড় বরফের চাদরটি আত্মপ্রকাশ করে। আর এভাবেই দীর্ঘমেয়াদী এক বিশ্বজুড়ে শীতলীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উত্তর মেরুতে বরফের টুপি বা আইসক্যাপ তৈরি হওয়ার অনেক আগেই দক্ষিণ মেরু স্থায়ী বরফে ঢেকে যায়।পৃথিবীর ইতিহাসের ইওসিন যুগের সমাপ্তির পর অলিগোসিন যুগ শুরু হওয়ার ঠিক প্রাক্কালেই পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার বরফের চাদরটি তার স্থায়ী রূপ নিয়েছিল।
অ্যান্টার্কটিকা একসময় দক্ষিণ গোলার্ধের গন্ডোয়ানা নামের বড় এক সুপারকন্টিনেন্ট বা মহাদেশের অংশ ছিল,যার মধ্যে বর্তমানের আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আরব ও ভারতীয় উপমহাদেশও অন্তর্ভুক্ত ছিল।








