
সাধারণতঃ বলা হয় মাইগ্রেন এক বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা। মাথার একদিক বা দু’দিক এ ব্যথা হতে পারে। মাইগ্রেনে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। মস্তিষ্কের বহিরাবরণে যে ধমনিগুলো আছে, সেগুলো মাথাব্যথার শুরুতে ফুলে যায়।
মাথাব্যথার সাথে বমি এবং বমি বমি ভাব রোগীর হতে পারে।একইসঙ্গে যাদের মাইগ্রেন হবার প্রবণতা আছে তাদের শব্দ, আলো, গন্ধ এবং কিছু খাবার যেমন চকলেট, আঙুরের রস, পনির ইত্যদির প্রভাবে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।চিকিৎসকদের মতে, মাইগ্রেনের এখনো স্থায়ী কোন চিকিৎসা নেই। অর্থাৎ কোন ওষুধ দিয়ে মাইগ্রেন চিরতরে সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়।কিন্তু রোগীর উপসর্গ ভেদে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে কিছু উপসর্গ কমিয়ে আনা যায়। যেমন,ব্যথার তীব্রতা এবং এতে আক্রান্ত হওয়ার হার কমে যায়।অন্যদিকে,যারা মাইগ্রেনে ভোগেন তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে অনেক পরিবর্তন আনেন, খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনেন। অনেকে নিয়ম করে সকালের খাবার খান বা কফি পানের অভ্যাস গড়ে তোলেন।আবার অনেকে নিয়মিত ওষুধ খেয়ে থাকেন।কিন্তু রমজান এলেই অনেকেই কিছুটা চিন্তায় পড়ে যান যে পরিবর্তিত রুটিনের সাথে কীভাবে তাল মিলিয়ে চলবেন। এই অবস্থায় মাইগ্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি রোজা রাখার প্রস্তুতি নিতে চান,তবে তাকে কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।যেমন,লবণাক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।কারণ এগুলো মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়ায়।সেইসঙ্গে,প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম হলে মাইগ্রেনের তীব্রতা কমে।পাশাপাশি ডাল ও সবজি বেশি পরিমাণে খেতে পারেন। এগুলি ফাইবারে সমৃদ্ধ এবং শরীরকে সারা দিন হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে।তবে,চিনি এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ সীমিত করা ভালো। কারণ এগুলি রক্তে শর্করা স্তরের ওঠানামা করতে পারে, যা মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে।
একইসঙ্গে প্রচুর জল পান করুন।রমজান মাসের আগে ধীরে ধীরে ক্যাফেইনের পরিমাণ কমিয়ে ক্যাফেইন ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত, যাতে ক্যাফেইন ছাড়ার কারণে মাইগ্রেন না হয়।
