
সাধারণতঃ দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে সকালের রোদ শরীরের সংস্পর্শে আসে না। বিশেষত ইউভিবি রশ্মির ঘাটতির কারণে শরীরের ভিটামিন ডি তৈরি হওয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
ওদিকে আবার অনেক সময় সকালে দেরি করে উঠতে মন চায়। ব্যস্ত সপ্তাহের পর একটু বিশ্রাম, একটু আরাম কে না চায়।কিন্তু নিয়মিত দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা শরীরের এক অত্যাবশ্যক পুষ্টি উপাদানকে নীরবে কমিয়ে দিতে পারে। সূর্যালোকের সংস্পর্শে ত্বকে স্বাভাবিকভাবে তৈরি হওয়া এই হরমোন জাতীয় ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মুড, হাড়ের শক্তি এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের সূর্য না পেলে এই ভিটামিনের মাত্রা কমে যেতে থাকে।কারণ,সকালে সূর্য না দেখেই যদি বেশি দেরিতে ওঠা হয়, তাহলে ভিটামিন–ডি সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় ইউভিবি রশ্মির সঠিক মাত্রা পাওয়া যায় না। দিনের পরের দিকে সূর্যের তেজ হয়তো বেশি থাকে, কিন্তু ইউভিবির ভারসাম্য থাকে না। ফলে ভিটামিন-ডি তৈরির ক্ষমতা কমে যায়। এর প্রভাব শুধু হাড়ে নয়, ক্লান্তি, ব্রেন ফগ, ত্বক শুষ্ক হওয়া, চুল ভঙ্গুর হওয়া, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া,এ সবই ঘাটতির সাধারণ উপসর্গ।এখন প্রশ্ন হলো,দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতিতে কী সমস্যা হয়? বলা হচ্ছে,ভিটামিন-ডি-কে সানশাইন নিউট্রিয়েন্ট বলা হয়। হাড় ও দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম–ফসফরাস শোষণ নিয়ন্ত্রণে এর গুরুত্ব অপরিসীম। ভিটামিন-ডি ঘাটতি দীর্ঘ দিন চললে শিশুদের রিকেট, প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওম্যালেসিয়া, আর বয়স বাড়লে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে।তবে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি-ও ক্ষতিকর। তাই ব্যক্তিভেদে সঠিক পরামর্শ জরুরি।এদিকে বলা হয় ভিটামিন-ডি স্বাভাবিকভাবে তৈরির সবচেয়ে কার্যকর সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে, যখন ইউভিবি রশ্মি তীব্র এবং ছায়া সবচেয়ে ছোট হয়।দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে এই গুরুত্বপূর্ণ সময় কমে যায়। শীতকালে দিন ছোট হয়, ফলে সমস্যা আরো বাড়ে।অন্যদিকে দেরিতে ওঠার ফলে সার্কাডিয়ান রিদম বা শরীরের জৈবিক ঘড়ি বিঘ্নিত হয়।যার ফল কম শক্তি, ক্লান্ত ভাব, খারাপ মুড, ধীরে পেশি রিকভারি,সবই, যা ভিটামিন-ডি ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত। এখন প্রশ্ন হলো, কিভাবে স্বাভাবিকভাবে ভিটামিন ডি বাড়াবেন ? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো,ঘুম থেকে ওঠার কিছুক্ষণ পর অন্তত ১০-১৫ মিনিট বাইরে রোদে দাঁড়ানো।সকালে না হয় মধ্যাহ্নের রোদে কিছুক্ষণ থাকা।খাদ্যতালিকায় ফর্টিফায়েড দুধ-দই, ডিম, ফ্যাটি ফিশ রাখা।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট,নির্দিষ্ট ঘুম জাগার রুটিন বজায় রাখা। আসলে,দিনে দেরিতে ওঠা তেমন গুরুতর মনে না হলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা সূর্যালোকের সংস্পর্শ কমিয়ে দেয় এবং শরীরের ভিটামিন-ডি তৈরির ক্ষমতাও হ্রাস করে।নিয়মিত সকালে ওঠা, রোদ পাওয়া এবং সুষম খাদ্য বজায় রাখা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, হাড়ের শক্তি, শক্তির মাত্রা এবং মুড ভালো রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।








