
সিনেমার মুন্নাভাই এমবিবিএস-এর কায়দায় অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে একদল ভুয়ো পরীক্ষার্থী। নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে দেশজুড়ে যখন কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখনই বিহারের লক্ষ্মীসরাইতে পর্দাফাঁস হয়েছে এক বিশাল জালিয়াতি চক্রের।
আসল পরীক্ষার্থীদের বদলে টাকার বিনিময়ে সলভার বা, মেধাবী ছাত্রদের বসিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর ছক কষেছিল এই গ্যাং। কিন্তু পুলিশের জালে ধরা পড়েছে অন্তত ২৪ জন, যাদের মধ্যে নামী মেডিকেল কলেজের পড়ুয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষার বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের কর্মীরাও রয়েছে। উল্লেখ্য,রবিবার দেশজুড়ে প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থী যখন নতুন করে নিট পরীক্ষায় বসেছিলেন,তখনই বিহার পুলিশ এই বড়সড় সাফল্য পায়। পুলিশ সূত্রে খবর, এই গোটা চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড বা মূল মাথা হলেন অর্পিত রাজ নামে এক মেডিকেল ছাত্র। তিনি গয়ার এএনএম মেডিকেল কলেজের পড়ুয়া। আশ্চর্যের বিষয় হল, ২০২৪ সালের নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডেও এই অর্পিতকে জেরা করেছিল সিবিআই। এবার নতুন করে জালিয়াতির ছক কষতে গিয়ে তিনি আবারও পুলিশের রাডারে। এছাড়াও পটনা মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মায়াঙ্ক কাশ্যপকেও এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন,মায়াঙ্ক কাশ্যপ নামের ওই মেডিক্যাল ছাত্রটি লক্ষ্মীসরাইয়ের হাসনপুর হাইস্কুল পরীক্ষা কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক কোম্পানির কর্মচারী সেজে ঢুকেছিলেন। তাঁকে জেরা করতেই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ লক্ষ্মীসরাইয়ের আরও দুটি স্কুলে, কেআরকে হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে আচমকা হানা দিয়ে ৭ জন ভুয়ো পরীক্ষার্থী ও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ১৪ জন বায়োমেট্রিক কোম্পানির কর্মীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। কোম্পানির কর্মীরাই মূলত টাকার বিনিময়ে ভুয়ো পরীক্ষার্থীদের ভেতরে ঢোকার রাস্তা মসৃণ করে দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
