ভারতের ইতিহাসে প্রথম আর্থিক মন্দা

0
14

লকডাউনের জেরে এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকে প্রায় ২৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল ভারতের জি ডি পি। তারপর শুরু হয়েছে আনলক।

আশা ছিল আনলক পর্বে অন্তত ঘরে দাঁড়াবে অর্থনীতি। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাংকের এক বিশেষজ্ঞ কমিটি জানিয়েছে জুন থেকে সেপ্টেম্বরের ত্রৈমাসিকেও সম্ভবত বৃদ্ধির বদলে সংকুচিতই হতে চলেছে জিডিপি, ৮.৬ শতাংশ। যার অর্থ স্বাধীনতার পর ইতিহাসে এই প্রথমবার সরকারিভাবে মন্দায় প্রবেশ করবে ভারত।

মানিটারি পলিসির দায়িত্বে থাকা ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মাইকেল পাত্রর নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল নিজেদের রিপোর্টে জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকেও দেশের জিডিপি ৮.৬ শতাংশ সংকুচিত হতে চলেছে। ওই রিপোর্টেই বলা হয়েছে, ভারত ২০২০-২১ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে টেকনিক্যাল রিসেশন অর্থাৎ মন্দায় প্রবেশ করেছে। যদিও সরকারিভাবে রিপোর্টটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।আগামী ২৭ নভেম্বর তা প্রকাশিত হওয়ার কথা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে দাঁড় করানোর জন্য মূলত রিজার্ভ ব্যাংকের উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে সরকারকে। অর্থমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী সে অর্থে বিশেষ কোনও কার্যকরী নীতিই গ্রহণ করতে পারেননি।কেন্দ্র যে তথাকথিত প্যাকেজের কথা বলছে, সেটি মুলত ঋণ সর্বস্ব। যার সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না।আর সাধারণ মানুষ সরাসরি সুবিধা না পেলে আর যাই হোক অর্থনীতির দৈন্যদশা যে ঘুচবে না।তবে দেরিতে হলেও সম্ভবত বোধদয় হচ্ছে সরকারের। সূত্রের খবর, করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃতীয় বড় আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে চলেছে কেন্দ্র।আরবিআই-র ডেপুটি গভর্নর মাইকেল পাত্রের রিপোর্টে বলা হয়েছে, অর্থনীতির বেহাল দশা দেশকে নজিরবিহীন মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তবে উৎসবের মরসুমে অর্থনীতির চাকা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। বিক্রিবাটা কমলেও ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটায় বিভিন্ন সংস্থার অপারেটিং লাভ বেড়েছে। ব্যাঙ্কের নগদের পরিমাণ, গাড়ি বিক্রির পরিসংখ্যান অক্টোবর মাসে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত মাসে আরবিআই গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের প্রস্তাবিত সময়ের আগেই অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। তবে মূল্যবৃদ্ধির চাপ ও অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আর্থিক নীতিতে হস্তক্ষেপের জেরে বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্টের ঝুঁকি রয়েছে বলে আরবিআই-র বুলেটিনে লিখেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের অভিমত, করোনার দ্বিতীয় দফার প্রাদুর্ভাবে প্রভাব পড়বে বিশ্বের আর্থিক বৃদ্ধিতে। সেই ঝুঁকিও থাকছে। বিভিন্ন সংস্থা ও সাধারণ মানুষ এখনও আশঙ্কিত। তার প্রভাব পড়বে আর্থিকক্ষেত্রে।