গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

29 C
Kolkata
29 C
Kolkata
More
    Home Editorial ইউনুসকে স্পষ্ট বার্তা ভারতের, বিপদ অনত্র্য

    ইউনুসকে স্পষ্ট বার্তা ভারতের, বিপদ অনত্র্য

    0
    563
    ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

    সীমান্তের ওপারে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা থেকে উপাসনাস্থলে হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। এধরনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে বাংলাদেশ-ভারতের বিদেশ সচিবের বৈঠকে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকার কী ভূমিকা, তাও জানতে চেয়েছে নয়াদিল্লি। বৈঠক শেষে বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি যা বলেছেন তার মোদ্দা কথা হলো,পারস্পরিক আস্থা ফেরাতে গঠনমূলক পথে হাঁটবে ভারত ও বাংলাদেশ। বিভিন্ন কারণে দুই দেশের সম্পর্ক মেঘলা হয়েছে, তা দূর করতে হবে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরির বৈঠকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে দিল্লির উদ্বেগের কথাও আলোচনা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের বিদেশ সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পরে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তা দিয়েছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। এইসঙ্গে পদ্মাপাড়ে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং উপাসনাস্থলে হামলা নিয়ে যে নয়াদিল্লি উদ্বিগ্ন, দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে সেকথা জানিয়েছেন।

    ভারতীয় বিদেশ সচিবের কথায়, আগস্ট পরবর্তী সময় বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে। সেই সময় থেকেই দুদেশের নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীই প্রথম ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হওয়ার পর ড. মহম্মদ ইউনুসকে প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। তার পরেও দুজনের মধ্যে টেলিফোনে সৌহার্দ্যপূর্ণ কথোপকথন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গ্লোবাল সাউথ সামিটে যোগ দেওয়ার জন্য ড. মহম্মদ ইউনুসকে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণও করেছেন।দু’দেশের বিদেশ সচিব এবং বিদেশ উপদেষ্টার মধ্যেও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভা চলাকালীন দুজনের মধ্যে কথাও হয়েছে। এর পরবর্তী পদক্ষেপ স্বরূপ ভারতীয় বিদেশ সচিবের ঢাকা সফর। এই প্রথম সরকারিভাবে দুদেশের সচিব পর্যায়ে বৈঠক হল।

    দুপক্ষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত, খোলামেলা এবং গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হলেও কী কী বিষয় কথা হয়েছে দুপক্ষের মধ্যে? বিদেশ সচিব জানিয়েছেন, ভারত চায়, আগের মতোই বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ইতিবাচক, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকুক। উভয় দেশ যেন সমান সুযোগ-সুবিধা পায়। বৈঠকে উঠে এসেছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রসঙ্গ। এ প্রসঙ্গে বিক্রম মিসরি বলেছেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। কিছু দুঃখজনক ঘটনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও কূটনৈতিক পরিকাঠামোয় হামলা অনভিপ্রেত বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে নয়াদিল্লি,বাংলাদেশের কাছ থেকে সদর্থক পদক্ষেপ আশা করে বলেও বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেনকে জানিয়েছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি।

    এদিকে,সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারারুদ্ধ করে রাখতে কার্যত মরিয়া হয়ে উঠেছে ইউনুস সরকার, এমন অভিযোগও উঠছে।কারণ,দেশদ্রোহ মামলার পর এবার খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। খবর, চট্টগ্রাম থানায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মামলা হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন ইসকন ভক্তের বিরুদ্ধেও। আগামী ২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের নিম্ন আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস-র মামলার শুনানি। তার আগে যুক্ত করা হয়েছে খুনের চেষ্টার মামলা।

    ওদিকে আবার,মৌলবাদ ও ভারত বিদ্বেষ এই দুই মন্ত্রকে হাতিয়ার করেই পথ চলতে চাইছে নয়া বাংলাদেশ।অভিযোগ, বিশ্বের একাধিক দেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরি এবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বাংলাদেশে। তাদের লক্ষ্য ভারতজুড়ে খিলাফত তৈরি। সেই উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকায় লিফলেট বিলি শুরু করেছে হিজবুত তাহরি। যেখানে ভারত বিদ্বেষ ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে জিহাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    সব মিলিয়ে একদিকে আলোচনা ,অন্যদিকে সেই আলোচনাকেই জটিল করে তোলার বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে প্রায় নীরবে। যা এই উপমহাদেশে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়া সম্পর্ককে আরও বিষিয়ে দিতে পারে ,এমন আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।