ক্ষমতায় ট্রাম্প ,‘অস্বস্তিতে’ পড়তে পারে ভারত

0
346

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আরো একবার নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যের ভোট তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ফেরার পথকে নির্ধারণ করে দিয়েছে।

প্রথম মেয়াদে, অর্থাৎ ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আমেরিকার ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ট্রাম্প। তার নীতির সঙ্গে মোটামুটি ভারতসহ সারা বিশ্ব পরিচিত। একাধিক ফ্রন্টে তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নরেন্দ্র মোদি সরকারের রয়েছে।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক ভালো। ট্রাম্প বহুবার মোদিকে তার ভালো বন্ধু বলে বর্ণনা করেছেন। এবারের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী মোদির নাম উল্লেখ করতেও শোনা গেছে।তবে ভারতের নীতিকে আক্রমণ করতেও ছাড়েননি তিনি।

এখন প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসায় ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে এবং তিনি কি ভারতের বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনের নীতিতে পরিবর্তন আনবেন?

এই অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিতে,আমেরিকা ফার্স্ট দৃষ্টিভঙ্গিই প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে মার্কিন শিল্প সংরক্ষণের নীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি চীন, ভারতসহ একাধিক দেশ থেকে আমদানির ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করেছিলেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, ভারতকে আমেরিকান হার্লে ডেভিডসন মোটরসাইকেলের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার বা কমানোর কথা বলা হয়েছিল। যেসব দেশ মার্কিন পণ্য বা পরিষেবা আমদানির ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি কড়া অবস্থান নিতে পারেন। ভারতও কিন্তু এই তালিকায় আসতে পারে।

আসলে,একটা অভিযোগ আছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখে ভারত বাণিজ্যসংক্রান্ত নিয়ম খুব বেশি লঙ্ঘন করে। তিনি চান না, ভারত মার্কিন পণ্যের ওপর খুব বেশি পরিমাণ শুল্ক আরোপ করুক। ট্রাম্প চান, তার দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হোক।

এই অবস্থায় যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কবিধি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তার প্রভাব ভারতে কেমন পড়তে পারে। কিছু অর্থনীতিবিদের অনুমান অনুযায়ী, যদি ট্রাম্পের শুল্কবিধি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ২০২৮ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপি ০.১ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। ভারত ও যুআমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ২০ হাজার কোটি ডলার। সেক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি শুল্কের হার আরো বাড়ান, তাহলে ভারতকে অনেকটাই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ভারতের আমদানিকে ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির হার বাড়বে ও সুদের হার খুব বেশি কমানো সম্ভব হবে না। এতে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের সমস্যা বাড়তে পারে। কারণ তাদের ইএমআই বেড়ে যাবে।

ছবি  সৌজন্যে : সোশ্যাল মিডিয়া