
একটা সময় সনাতনী টেস্ট ক্রিকেট, রোদমাখা সুন্দর দিন, হাড়কাঁপানো হাওয়ায় ভেসে আসা লাল বলের জৌলুস টের পাওয়া যেত বইয়ের পাতায় চোখ বোলাতে বোলাতে।
নেটফ্লিক্সের নতুন ডকু-সিরিজ,দ্য গ্রেটেস্ট রাইভ্যালরি, ইন্ডিয়া ভার্সেস পাকিস্তান দেখতে দেখতে সেই বইটাকেই মনে পড়ে যাবে। শান্তিপ্রিয় খেলার রোমাঞ্চের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিলেন পারিপার্শ্বিকতাকে।কিন্তু নতুন এই সিরিজে সেটাই যেন ঠিকমতো মিশল না।অথচ অনেক কিছুই উঠে এসেছে ইতিহাসের দাবি মেনে। প্রথমে নাম শুনলে মনে হবে সেই ১৯৫২ সালের অক্টোবরে ভারত-পাকিস্তান প্রথম টেস্ট থেকে শুরু করে হাল আমল পর্যন্ত এশিয়ার অ্যাসেজ বলে পরিচিত এই চির প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নিক্তিতে মেপে দেখানো হবে। কিন্তু মূলত ২০০৪ সালের ফ্রেন্ডশিপ সিরিজই এই ডকু-সিরিজের প্রাণভোমরা। তাকে জ্যান্ত করতে কখনও ১৯৮৬ সালের অস্ট্রেলেশিয়া কাপের ফাইনালে জাভেদ মিঁয়াদাদের শেষ বলে ছক্কা কিংবা ১৯৯৯ সালের ইডেনে শোয়েব আখতারের আগুনে পেসে পরপর দুই বলে রাহুল দ্রাবিড় ও শচীন তেণ্ডুলকরের স্টাম্প হাওয়ায় উড়ে যাওয়া দেখানো হয়েছে। এদিকে ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেট-লড়াই বহুমাত্রিক।লড়াইয়ের ব্যাটনও সেভাবে একপক্ষের হাতেই থেকে যায়নি।বিশ্বকাপে বারবার পাকিস্তান হারলেও হেড-টু-হেডে পাকিস্তান এগিয়ে থেকেছে।বলা হয় মিঁয়াদাদের সেই ছক্কার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচে সব সময়ই পাকিস্তান আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে চলতে থাকে। এর মাঝেই বিশ্বকাপে খেলাগুলি বাদ দিলে অন্য ম্যাচে পাকিস্তান অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠত।পরবর্তীতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেই ব্যাটনটাই ধীরে ধীরে ভারতের হাতে চলে যায়। এই বিষয়টাকে ডকু-সিরিজে পরিষ্কার বোঝানো হয়নি।বলা হচ্ছে আসলে এই সিরিজটি মূলত যে প্রশ্নটি তুলতে চেয়েছে তা হল ক্রিকেট খেলে কি দুই দেশের মধ্যেকার টেনশনটা কমানো সম্ভব?
যে চেষ্টা ২০০৪ সালের ওই সিরিজে হয়েছিল। শিগগির শুরু হতে চলা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের ভারতের না খেলা নিয়ে যে প্রশ্ন ফের উঠতে শুরু করেছিল। সেদিক দিয়ে দেখলে একেবারে যথাযথ সময়েই এই দ্য গ্রেটেস্ট রাইভ্যালরি, ইন্ডিয়া ভার্সেস পাকিস্তান ডকু-সিরিজটি মুক্তি পেল।








