ফেব্রুয়ারি মার্চে করোনা ভ্যাকসিন ?

0
16

পার্থ মুখোপাধ্যায়

ভারতে করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে যাবতীয় আশঙ্কা, যাবতীয় উৎকণ্ঠা নাকি শেষ হতে চলেছে। প্রত্যাশার তুলনায় বেশ কয়েক মাসে আগেই ভারতের বাজারে আসতে চলেছে সম্পূর্ণ দেশীয় গবেষণায় তৈরি করোনার প্রতিষেধক, কোভ্যাকসিন। কেন্দ্রীয় সরকারের আইসিএমআরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন জুন বা এপ্রিল নয়, ফেব্রুয়ারি মার্চের মধ্যেই বাজারে চলে আসতে পারে করোনার দেশীয় প্রতিষেধক, কোভ্যাকসিন।

বাস্তব হলো ক দিন আগে করোনাভাইরাসের কালবেলায় আনলক ৫ পর্বে স্কুল খোলার অনুমতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত,নিয়মাবলী ও বিধিনিষেধ রাজ্যগুলির উপরই দেওয়া হয়েছিল। অন্ধ্রপ্রদেশের মতোই স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল উত্তরাখণ্ড সরকার। আর স্কুল খুলতেই ভয়াবহ ভাবে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে করোনাভাইরাসের। ২ নভেম্বর থেকে স্কুল খোলার পাঁচদিনের মধ্যে ৮৪টি স্কুলের পাঁচটি ব্লকে ৮০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ৮৪টি স্কুল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অন্ধ্রপ্রদেশেও একই অবস্থা, বরং আরও ভয়ানক। ৮৬৯ জন শিক্ষিকা-শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। তবে স্কুল বন্ধ করার নির্দেশ এখনও দেওয়া হয়নি সরকারের তরফে।

এই অবস্থায় করোনার ভ্যাকসিন কবে আসবে,এটাই এখন মানুষের মনে একমাত্র প্রশ্ন। ভারতের বাজারে করোনার ভ্যাকসিন আসতে পারে সামনের বছর ফেব্রুয়ারি মাসে। বেসরকারি সংস্থা ভারত বায়োটিক-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে করোনা ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু করেছিল আইসিএমআর। চলতি বছর ১৫ অগাস্ট সেই ভ্যাকসিন বাজারে আসতে পারে বলে শোনা গিয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি,এবার শোনা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারি মাসে এই ভ্যাকসিন বাজারে আসতে পারে। আইসিএমআরের বিজ্ঞানী ও কেন্দ্রীয় সরকারের কোভিড টাস্ক ফোর্স-এর সদস্য রজনী কান্ত জানিয়েছেন, কোভ্যাকসিন-এর তৃতীয় দফার কাজ প্রায় শেষের দিকে।

অন্যদিকে আগামী জানুয়ারিতেই ভারতে কোভিডের ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে,এমন দাবি করেছেন সিরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদর পুনাওয়ালা। যদিও ওই ভ্যাকসিন তৈরির দায়িত্বে থাকা ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে ডেলিভারির থেকে পিছিয়ে রয়েছে তারা। ফলে আদর পুনাওয়ালার দাবি আদৌ ফলপ্রসূ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সাক্ষাৎকারে আদর বলেছেন,ব্রিটেন-ভারতে এই টিকার প্রয়োগ সফল হলে এবং এ দেশের নিয়ামক সংস্থাগুলির ছাড়পত্র সঠিক সময়ে পাওয়া গেলে আগামী বছরের জানুয়ারিতে কোভিশিল্ড পাওয়ার আশা করা যেতেই পারে। ব্রিটিশ-সুইডিশ বহুজাতিক অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোভিশিল্ড নামে কোভিডের টিকা তৈরি করছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ভারত-সহ গোটা বিশ্বের জন্য তার ৩০০ কোটি ডোজ উৎপাদন করা হবে। ভারতে কোভিশিল্ড উৎপাদন ও পরীক্ষার বরাত পেয়েছে পুণের সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া বা সিআইআই। তবে জানুয়ারিতে ওই টিকা পাওয়া যাবে বলে আশা করলেও আদর বলেছেন,সবটাই নির্ভর করছে, কোভিশিল্ড কতটা প্রতিরোধক ক্ষমতাসম্পন্ন এবং কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে, তার উপর।

এদিকে আইসিএমআরের বিজ্ঞানী রজনী কান্ত জানিয়েছেন, তৃতীয পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ হওয়ার আগেই কোভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করা হবে কি না তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। তবে ট্রায়াল শেষ করে এই ভ্যাকসিন বাজারে আসতে পারে সামনের বছর ফেব্রুয়ারিতে।রজনী কান্ত বলেছেন,প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ট্রায়ালের পর দেখা গিয়েছে এই ভ্যাকসিন কার্যকর। মানুষের উপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ সুরক্ষিত। এমনকী পশুদের উপরও এই ভ্যাকসিন-এর কার্যকারিতা প্রমাণ হয়েছে। তবে তৃতীয় দফার ট্রায়াল-এর প্রয়োজন রয়েছে।তা না হলে একশো শতাংশ নিশ্চিত হওয়া যাবে না। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্র চাইলে জরুরি ভিত্তিতে টিকার প্রয়োগ হতে পারে। তবে ফেব্রুয়রি নাগাদ এই ভ্যাকসিন বাজার চলে আসবে বলে আশা করা যায়।

আর ঘটনা হলো উত্তরাখণ্ড-অন্ধ্রপ্রদেশে এতজন শিক্ষক-পড়ুয়া একসঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, করোনা অতিমারীর মধ্যে স্কুল খোলার প্রয়োজন হল কেন? উল্লেখ্য, শিশু ও কমবয়সীদের করোনার সুপার স্প্রেডার বলে সম্প্রতি আখ্যা দিয়েছে আইসিএমআর-ও। আর তা বলার বড় কারণ হল আমেরিকা। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে আমেরিকায় স্কুল খুলেছিল। কিন্তু মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই সেখানে করোনা আক্রান্ত হয়েছিল লক্ষাধিক শিশু।