
অটো, বাস, ট্রেন কিংবা মেট্রো,যাতায়াতের পথে কমবেশি সকলেই ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক স্ক্রোল করেন আর কিছু মনের মতো জিনিস পছন্দ হলেই বন্ধুকে হোয়াট্সঅ্যাপে পাঠিয়ে দেন।এ অভ্যাস নিশ্চয়ই আপনারও আছে? ইনস্টাগ্রামের রিল দেখে রান্না করা, প্রসাধনী কেনা কিংবা ঘর সাজানোর শখ অনেকেরই আছে।
তবে শরীরচর্চা বা ডায়েটের মতো কাজগুলির জন্যও কি এই সব রিলের উপর ভরসা করা উচিত? সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ডায়েট নিয়ে নতুন কিছু আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, দিনে দু’বার বার খেলেই নাকি চটজলদি ওজন কমবে। একটা সময় ছিল, যখন পুষ্টিবিদেরা বলতেন পরিমাপ ঠিক রেখে বারে বারে খাওয়ার অভ্যাসই আদতে সুস্বাস্থ্যের মন্ত্র। তবে এখন আবার,টুম্যাড অর্থাৎ,টু মিল আ ডে ডায়েটের রমরমা বেড়েছে। এদিকে এই ধারায় গা ভাসিয়েছেন তারকারাও। পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই। সকলেই জানেন, তবু রোগা হওয়া বা মেদ ঝরানোর বিষয়ে প্রায় সকলেই তুলনামূলক ভাবে সহজ শর্টকাট পন্থা বেশি পছন্দ করেন। তবে এই শর্টকাট উপায়টি আদৌ স্বাস্থ্যসম্মত তো? এই ডায়েটে দিনে মাত্র দু’বার খাওয়া যায়, আর বাকি সময়টা উপোস করেই কাটাতে হয়। এই ডায়েটের সঙ্গে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং-এর খানিকটা মিল আছে। এ ক্ষেত্রেও সারা দিনে অনেকখানি সময় উপোস করেই থাকতে হয়। টু মিল আ ডে ডায়েট করার প্রবণতা ইদানীং বেড়েছে। অন্যদিকে, নানা ব্যস্ততার মাঝে প্রতি দিন যাঁরা শরীরচর্চা করার সময় পান না, তাঁদের কাছে এই প্রকার ডায়েট একেবারে হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো। রোগা হওয়ার লক্ষ্যপূরণে এই অভ্যাস কারও কাজে লাগছে। কারও আবার হিতে বিপরীত হচ্ছে। আসলে টু মিল আ ডে ডায়েট করার সময় শরীরে যেন প্রয়োজনীয় ক্যালোরির ঘাটতি না হয় সে দিকে নজর রাখা ভীষণ জরুরি। যদি কারও শরীরে দিনে ১২০০ ক্যালোরির প্রয়োজন হয় তা হলে দিনের দু’বারের খাবারের প্রতি বারে যেন শরীরে ৬০০ ক্যালোরি পৌঁছোয় তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি মিলে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, গুড ফ্যাট, খনিজ আর ভিটামিনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে হবে। এই ডায়েট করলে কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো জরুরি। এই ডায়েট করলেও মাঝেমাঝে কিন্তু ফল, ফলের রস, চা, নানা প্রকার বীজ, বাদাম খাওয়া যেতে পারে।আর দিনে বেশি করে জল খাওয়াও ভীষণ জরুরি। অন্যদিকে দিনের খাবারে কী কী থাকলে শরীরে পুষ্টির অভাব হবে না, তা একমাত্র পুষ্টিবিদই বলতে পারবেন। তাই কোনও রিল দেখে এমন ডায়েট শুরু করবেন না। পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই প্রকার কোনও ডায়েট শুরু করা উচিত। এই প্রকার ডায়েটে ধরুন সকালে ৮ টা কিংবা ৯ টা নাগাত প্রাতরাশ করলেন, সে ক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন, রাত ৮-৯টার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিতে। তবে শরীরে কোনও রকম ক্রনিক অসুখ থাকলে এই ডায়েটের দিকে না ঝোঁকাই ভাল। শিশুদের কিংবা বৃদ্ধদের এই ডায়েট করার পরামর্শ কখনওই দেব না। যাঁদের ওজন বেশি তাদের জন্য এই ডায়েট কাজে আসে।
এই ডায়েটে শরীরের বিপাক ভাল থাকে। শরীরে ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্ট বাড়ে, স্মৃতিশক্তি ভাল রাখতেও সাহায্য করে। আর, বেশি ক্ষণ উপোস করে থাকলে গ্যাস্ট্রিক আলসার, বদহজমের মতো সমস্যা বেড়ে যাবে। এ ছাড়াও নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে শরীরে। ডায়াবিটিস থাকলে এই প্রকার ডায়েট একেবারেই করা চলবে না।







