
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন ইরানের উপকূলের কাছে দ্বিতীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে খুব শীঘ্রই যোগ দিতে পারে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বিশাল রণতরীটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে সক্ষম।সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দ্বৈত রণতরীর অবস্থান মূলত একটি শ্যাডো স্ট্রাইক-এর পূর্বাভাস। প্রথাগত যুদ্ধের বদলে এই কৌশলে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে শত্রুদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অত্যাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে ইরান টেরই পাবে না কখন তাদের সামরিক ক্ষমতা পঙ্গু হয়ে গেছে। সাধারণত বড় ধরনের কোনো যুদ্ধের পরিকল্পনা থাকলেই কেবল মার্কিন নৌবাহিনী একই অঞ্চলে দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করে থাকে।এই সম্ভাব্য অভিযানের অগ্রভাগে থাকবে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-থার্টি ফাইভ সি লাইটনিং টু। বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে মোতায়েন থাকা এই বিমানগুলো রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইরানের আকাশসীমায় গভীর অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম। এমনকি ইরানের অত্যন্ত শক্তিশালী বলে পরিচিত বাভার-৩৭৩ রাডার সিস্টেমকেও এই যুদ্ধবিমানগুলো অনায়াসেই বোকা বানাতে পারে।কোনো ধরনের সংকেত না দিয়ে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি বা কমান্ড সেন্টারে নিখুঁত আঘাত হানতে পারে। অন্যদিকে আকাশপথে হামলার আগে ডিজিটাল যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে কার্যত অন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন বাহিনীর। বিমানবাহী রণতরী থেকে ওড়া ইএ-এইটিন জি গ্রাউলার যুদ্ধবিমানগুলো ইরানি রাডার নেটওয়ার্কের ওপর শক্তিশালী ইলেকট্রনিক জ্যামিং পরিচালনা করবে। এর ফলে একটি ডিজিটাল কুয়াশা তৈরি হবে, যা ইরানি সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল অপারেটরদের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে বাধা দেবে এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবে।
সমুদ্রের উপরিভাগে যখন রণতরীগুলো দাপিয়ে বেড়াবে, ঠিক তখন সমুদ্রের গভীরে নিঃশব্দে অবস্থান করবে ওহিও-ক্লাসের গাইডেড-মিসাইল সাবমেরিন। প্রতিটি সাবমেরিনে ১৫৪টি করে টমাহক ক্রুজ মিসাইল বহনের সক্ষমতা রয়েছে। জলের নিচ থেকে ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই ইরানের শত শত মাইল ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পা









