
চালের দাম নিয়ে এক বিতর্কিত ঠাট্টায় জড়িয়ে পড়েছিলেন জাপানের কৃষিমন্ত্রী তাকু এতো। এর জেরে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তিনি।গত কয়েক দশকের মধ্যে জাপান যখন জীবনযাত্রার সবচেয়ে বড় ব্যয়সংকটে পড়েছে এবং সেই সংকটের কেন্দ্রে আছে জাতীয় খাদ্য চাল,তখন তার মন্তব্য রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর বলেই বিবেচিত হয়েছে।
একটি স্থানীয় তহবিল গঠন অনুষ্ঠানে তাকু এতো বলেছেন, তিনি কখনও চাল কেনেন নি। সমর্থকরাই অনেক চাল উপহার দেন।আসলে হালকা মেজাজে এই মন্তব্য করেছিলেন মন্ত্রী। তবে হাসির পরিবর্তে তা বিতর্ক উস্কে দেয়।এতে জনগণের ক্ষোভ এতটাই বেড়ে যায় যে, বিরোধী দলগুলো তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার হুমকি দেয়। আর তার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এতে প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সংখ্যালঘু সরকারের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে,যে সরকার এরইমধ্যে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছিল।চালের দাম নিয়ে জাপানে অতীতেও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ১৯১৮ সালে চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ছড়িয়ে পড়ে দাঙ্গা এবং তৎকালীন সরকারের পতন হয়। ফলে ইশিবা সরকারের ক্রমহ্রাসমান গ্রহণযোগ্যতায় এই চাল ইস্যুটিরও একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।এদিকে,লোকজন বলেছেন, রাজনীতিকরা নিজেরা বাজারে যান না, তাই বোঝেন না। আর ইবারাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতিবিদ কুনিও নিশিকাওয়ার মতে, সরকার চালের চাহিদা ভুলভাবে অনুমান করেছিল।
এর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে করোনা মহামারির পর বাইরে খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া,পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি, অন্যান্য খাবারের তুলনায় চাল তুলনামূলক সস্তা থাকা, প্রচণ্ড গরমে ফলন কম হওয়া এবং চালের মান খারাপ হওয়া। জাপান সরকার মার্চ মাসে জরুরি মজুত থেকে চাল ছেড়েছিল,যা সাধারণত শুধু দুর্যোগের সময় করা হয়। তবু জাপানে চালের দাম কমেনি।
