
পার্কে হাঁটা বা গাছপালার মধ্যে সময় কাটানোর পর যদি নিজেকে শান্ত লাগে, তাহলে সেটা কল্পনা নয়। এর পেছনে আছে শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।সবাই জানেন,প্রকৃতিতে থাকলে শরীরের ভেতরে পরিবর্তন হয়।
এতে স্ট্রেস কমানোর হরমোন কমে।রক্তচাপ কমে। এমনকি হজমেরও উন্নতি হয়।তবে,এই উপকার পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে থাকতে হয় না। মাত্র ২০ মিনিটেই সবচেয়ে বেশি অনেক উপকার পাওয়া যায়।তাই সপ্তাহে কয়েক দিন দুপুরে একটু হাঁটা বা পার্কে বসে খাবার খেলেও উপকার মিলতে পারে।আসলে প্রকৃতির মধ্যে থাকলে অজান্তেই শরীর শান্ত হয়ে যায়সবুজ গাছ দেখা, গাছের গন্ধ পাওয়া, পাতার শব্দ বা পাখির ডাক, এসবের প্রভাব শরীরে খুব দ্রুত পড়ে।এসব এমন এক ধরনের স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে, যা না জানিয়েই আমাদের অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করে।এতে শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়।যেমন রক্তচাপ কমে। হৃদস্পন্দনের ধরণ বদলায়, হৃদপিণ্ড ধীরে ধীরে স্পন্দিত হয়। এগুলো শরীর শান্ত হওয়ার লক্ষণ।গবেষণায় দেখা গেছে,যারা সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট সবুজ পরিবেশে সময় কাটান, তারা নিজেদের বেশি সুস্থ মনে করেন।তাদের মানসিক অবস্থাও ভালো থাকে। প্রকৃতিতে সময় কাটানোর উপকার এতটাই স্পষ্ট যে কিছু জায়গায় গ্রিন সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং চালু হয়েছে। এতে মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যাতে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।পাশাপাশি,হরমোনের ভারসাম্য ঠিক হয়।বলা হয় প্রকৃতিতে গেলে শরীরের হরমোনও বদলায়। স্ট্রেসের সময় কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মত হরমোনগুলো বেড়ে যায়। কিন্তু প্রকৃতিতে থাকলে সেগুলো কমে আসে।এক গবেষণায় দেখা গেছে, তিন দিন হোটেল রুমে থাকা মানুষ যখন হিনোকি গাছের তেল গন্ধ নেয়, তখন তাদের অ্যাড্রেনালিন কমে যায়। আর রক্তে ন্যাচারাল কিলার সেল বেড়ে যায়।এই কোষগুলো শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে।গবেষণায় অংশ নেওয়া মানুষের শরীরে এই কোষ দুই সপ্তাহ পরেও বেশি ছিল।
সব মিলিয়ে,প্রকৃতি যা শান্ত করা দরকার, তা শান্ত করে। আর যা শক্তিশালী করা দরকার, তা শক্তিশালী করে।তাই প্রকৃতিতে তিন দিনের ছুটি কাটালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বাড়ে। এক মাস পরও এটি আগের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি থাকতে পারে।পাশাপাশি,অল্প সময়ের জন্য প্রকৃতিতে থাকলেও কিছু উপকার পাওয়া যায়।







