কবীর সুমনের পালটি, তসলিমার তুলোধোনা

0
70
ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল 

কবীর সুমন,মার্চ মাসে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে এসআইআরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই ভোল পাল্টেছেন সঙ্গীত শিল্পী।

কবীর সুমন বলেছেন, আমি তো তৃণমূলপন্থী নই।এদিকে গত দেড় দশকে তৃণমূল আর সুমনের একটা ঘনিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু রাজনীতির পালাবদলের কবীর সুমনের এমন বক্তব্য অবাক করেছিল। তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতেই চলছে আলোচনা-সমালোচনা।কবীর সুমন বলেছেন, আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না।এদিকে,পনেরো বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুমন বলেছেন,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে তিনি একসময় নির্বাচনে অংশ নেন, কিন্তু মেয়াদ শেষ হতেই সরে দাঁড়ান।অন্যদিকে,বাংলা সঙ্গীতজগতে নবতরঙ্গ আনা শিল্পীর এহেন আচমকা ভোলবদলে বিস্মিত ফ্যান ফলোয়াররাও।তারপরেই এবার কবীর সুমনকে বেনজির তোপ তসলিমা নাসরিনের।সুমনের এহেন সাক্ষাৎকার দাবানল গতিতে ভাইরাল হতেই কটাক্ষ, সমালোচনার ঝড়! তোপ দাগতে পিছপা হন নি লেখিকা তসলিমা নাসরিনও। তসলিমার মন্তব্য,কবীর সুমনই তো বলেছিলেন, আজ থেকে ৩০০ বছর পর মমতার নামে পুজোআচ্চা হবে, মন্দিরও হবে। শুধু তাই নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে একটি গানও বেঁধেছিলেন, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হয়েছিল।

২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের প্রশংসা করে একটি গান বেঁধেছিলেন।কবীর সুমন কেবল গানই বাঁধেননি। তিনি মমতা নামে একটি নিজস্ব রাগ তৈরি করে তাতে বাংলা খেয়াল গেয়েছিলেন। মমতার জন্য শীর্ষক একটি বিশেষ গানও বেঁধেছিলেন তিনি।তসলিমা নাসরিনের প্রশ্ন,এত গান লেখার জন্য এবং গাওয়ার জন্য কি কেউ তাঁকে হাতে পায়ে ধরেছিল? মমতার নামে মন্দির হবে, এই ঘোষণা কবীর সুমন মাথায় একটা সাদা গোল টুপি পরে করেছিলেন। ওই টুপিটা পরার জন্য কে বা কারা তাঁর হাতে পায়ে ধরেছিল, জানতে পারি?