
বর্তমান যুগে শিশুরা ইন্টারনেটকে মনে করে একটুখানি মজা করার জায়গা। কেউ হয়তো নতুন বন্ধুর সঙ্গে গেম খেলছে, কেউবা কার্টুন দেখছে।
কিন্তু এই নিরীহ মজা কখন যে বিপদের দিকে নিয়ে যাবে, তা অনেকেই বুঝতে পারে না।আসলে,৮ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা এখনো ঠিকভাবে বুঝতে শেখেনি কে সত্যিকারের বন্ধু আর কে ছদ্মবেশে বিপজ্জনক।১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা অনেক সময় একাকিত্ব, ভালোবাসা বা বোঝার মানুষ খোঁজে, যা তাদের সহজ টার্গেটে পরিণত করে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বয়সে শিশুদের খুবই সাবধানে গাইড করতে হয়। এখন প্রশ্ন হল,বাবা-মা কী করতে পারেন? একসঙ্গে বসে খেলা বা দেখতে পারেন। এতে করে বাবা-মা সহজে প্রশ্ন করতে পারেন,বাচ্চারা কী দেখছে বা খেলছে তা বুঝতে পারেন।অ্যাপের সেটিংসে গোপনতা বাড়িয়ে অজানা লোকদের ব্লক করা যায়।শক্ত রিপোর্টিং সিস্টেম তৈরি করুন। শিশু যেন সাহস করে বলতে পারে আমি অনলাইনে অস্বস্তিকর কিছু দেখেছি, এমন পরিবেশ তৈরি করুন।স্কুলে ডিজিটাল নিরাপত্তা শেখানো উচিত যেমন,সাইবার বুলিং, অনলাইন প্রতারণা ইত্যাদি। সেইসঙ্গে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সচেতনতা কর্মশালা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে মিডিয়া, কমিউনিটি সেন্টার ও প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে মিলেই শিশুদের জন্য নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যায়। অন্যদিকে শিশুরা কিভাবে নিজেরা সচেতন হতে পারে? নিজের মনোভাবের ওপর ভরসা রাখা,কিছু অস্বাভাবিক লাগলে, সেটা আসলেই বিপজ্জনক হতে পারে। পাশাপাশি,সতর্কতা লক্ষণ, অচেনা কারো হঠাৎ খুব ভালো ব্যবহার,ব্যক্তিগত প্ল্যাটফর্মে যেতে চাপ দেওয়া,ছবি বা টাকা চাওয়া।অর্থাৎ,শিশুদের শুধু বিপদের কথা বললেই হবে না। তাদের এমন সাহস দিতে হবে, যাতে বিপদের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আর বাবা-মা ও শিক্ষকদের উচিত তাদের পাশে থাকা। সচেতনতা, আত্মবিশ্বাস আর সঠিক পদক্ষেপই শিশুকে রাখবে নিরাপদ।








