
১০ বছরব্যাপী দীর্ঘ সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পরও বাকিংহাম প্যালেসে স্থায়ীভাবে বসবাস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রিটিশ রাজা চার্লস। রাজকীয় কর্মকর্তাদের সূত্র ধরে বলা হয়েছে,আগামী বছর লন্ডনের এই ঐতিহাসিক প্রাসাদের সংস্কার কাজ শেষ হবে।
রাজার এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় দু’ শতাব্দী ধরে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রধান বাসভবন হিসেবে বাকিংহাম প্যালেস ব্যবহারের ঐতিহ্যের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।উল্লেখ্য, ১৮৩৭ সালে রানি ভিক্টোরিয়া সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে এই প্রাসাদটিই ছিল ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের মূল কেন্দ্র। রাজা চার্লস বাকিংহাম প্যালেসে ফিরে না গিয়ে তার বর্তমান বাসভবন ক্ল্যারেন্স হাউজেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে প্রাসাদটির প্রায় ৩৬ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড ব্যয়ের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পর এটি আগের মতোই রাজতন্ত্রের মূল কার্যালয় এবং রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বহাল থাকবে। সেখানে বিদেশি অতিথিদের অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। প্রাসাদে রাজার ব্যবহারের জন্য কিছু ব্যক্তিগত কক্ষ সংরক্ষিত থাকবে, তবে ২০১৯ সালের পর থেকে রাজা চার্লস কিংবা প্রয়াত রানি এলিজাবেথ,কেউই এই প্রাসাদে রাত্রিযাপন করেননি। সংস্কারের পর সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রাসাদে প্রবেশের সুযোগ আরও বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে রাজপরিবারের আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে প্রথমবারের মতো রাজা চার্লসের আয়করের হিসাব জনসমক্ষে আনা হয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার কর দিয়েছেন, যা তাকে ব্রিটেনের শীর্ষ ১০০ করদাতার তালিকায় স্থান দিয়েছে। ২০২২ সালে সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে এ পর্যন্ত তিনি ৩ কোটি পাউন্ডের বেশি কর পরিশোধ করেছেন। আইনগতভাবে ব্রিটিশ রাজাদের কর দেওয়া বাধ্যতামূলক না হলেও ১৯৯৩ সাল থেকে রানি এলিজাবেথের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চার্লসও স্বেচ্ছায় এই কর দিয়ে আসছেন। চার্লস ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার স্টেট এবং অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে ব্যক্তিগত আয় করে থাকেন।
