সাংসদ : ইস্তফা কোয়েল মল্লিকেরও

0
19
ছবি সৌজন্যে : এক্স

দিন কয়েক ধরেই শোনা যাচ্ছিল যে, রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়তে পারেন কোয়েল মল্লিক। শেষমেশ সেই জল্পনা সত্যি করেই ইস্তফা দিয়েছেন অভিনেত্রী। এ যেন প্রত্যাশিতই ছিল, সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইকরা একে একে নিজের ইস্তফাপত্র রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছেন।

এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়লেন কোয়েল মল্লিক। অতঃপর কোয়েল মল্লিক ইস্তফা দেওয়ার ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে দাঁড়াল ৯-এ। শোনা যাচ্ছে, চলতি সপ্তাহে আরও ক’জন সাংসদ ইস্তফা দিতে পারেন। উল্লেখ্য, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল বেনজির ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের পরিষদীয় দল মমতা-অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরি করেছে। সেই ব্লকে বিধায়কসংখ্যা এখন ৬৪ জন বলে দাবি। লোকসভাতেও একই ধাঁচে তৈরি হয়েছে নতুন তৃণমূল। সংসদের নিম্নকক্ষে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একজোট হয়ে এনডিএ-তে শামিল হওয়ার চিঠি দিয়েছেন প্রায় জনা ২০ তৃণমূল সাংসদ। একই ধাঁচে ভাঙন শুরু হয়েছে রাজ্যসভাতেও। যদিও এখানে ভাঙনের মডেল আলাদা। রাজ্যসভায় একযোগে বিধানসভা বা লোকসভার মতো ভাঙন হচ্ছে না। কারণ সংসদের উচ্চকক্ষে একসঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদ একজোট করাটা মুশকিল। তাই বিকল্প পন্থা নিচ্ছেন বিদ্রোহী সাংসদরা। একে একে ইস্তফা দিচ্ছেন তাঁরা। রাজ্যসভায় প্রথম ইস্তফাটি দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। পরে ইস্তফা দেন সুস্মিতা দেব, এবারে সাংসদ পদ ছাড়লেন প্রকাশচিক বরাইক এবং কোয়েল মল্লিক। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহে আরও এক এবং আগামী সপ্তাহে আরও দু’তিন জন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করতে পারেন।

রাজ্য বিধানসভার যা পরিস্থিতি তাতে ওই রাজ্যসভা আসনগুলিতে উপনির্বাচন হলে তাতে জয়ী হবে বিজেপিই। শপথগ্রহণের পর কোয়েল মল্লিক বলেছিলেন, অনেক ভেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা নয়। এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা, এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না। তবে দলের ভরাডুবিতে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে এবার তৃণমূলের থেকে দূরত্ব বাড়ালেন কোয়েল মল্লিকও। যদিও কোয়েলের পদত্যাগের পদ্ধতি নিয়ে শেষপর্যন্ত প্রশ্ন উঠেছে।