কলকাতা আবার দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারে

0
9

Last Updated on by

মহামতি গোপাল কৃষ্ণ গোখলের সেই বিখ্যাত উক্তির পুনরাবৃত্তি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।বাংলা আজ যা ভাবে, দেশ তা ভাবে আগামীকাল।

ক্রমাগত নেই, নেই, হচ্ছে না, পিছিয়ে যাচ্ছি, কোথায় উন্নয়ন, পিছনের সারিতে বাংলা, বিভিন্ন ভাবে প্রকাশিত নৈরাশ্যের কথার মধ্যে মোদী উবাচ আবারো বাঙালির কলার উঁচু করার ব্যবস্থা হতে পারে। আশা করা যেতে পারে, বাংলা আবার জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন পাবে।

কলকাতার ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি)-এর ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় ভাষণ ভিডিয়ো কনফারেন্সে বক্তব্য পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনুষ্ঠানে আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্প নিয়ে সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বণিকসভাকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেছেন, আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পে সরকার ব্যবসা সহায়ক বহু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। তার সুযোগ নিয়ে নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসুন শিল্পপতিরা । সরকার সব রকম সাহায্য করবে।করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং তা রুখতে লকডাউনের জেরে অর্থনীতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। তার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে একাধিক সমস্যা।

ভার্চুয়াল ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই সভা এমন একটা সময় হচ্ছে, যখন দেশ একাধিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। করোনা তো রয়েছেই, তার সঙ্গে পঙ্গপাল, অসমে তৈলক্ষেত্রে আগুন, কিছু এলাকায় ভূমিকম্পের মতো সমস্যা রয়েছে। তবে এই সব সমস্যার সঙ্গে দেশবাসী এক হয়ে লড়ছে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বণিকসভা ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের এই সভা হয়েছে কলকাতায়। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণে গুরুত্ব পেয়েছে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত।বারবার তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে কলকাতার কথা, পশ্চিমবঙ্গের কথা। বাংলা আজ যা ভাবে, দেশবাসী তা আগামিকাল ভাবে,এই উদাহরণ আবার ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি মনে করেন, কলকাতা আবার দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, এক সময়ে স্বামী বিবেকানন্দই দেশে তৈরি দ্রব্যের মাধ্যমে আত্মনির্ভরতার বাণী দিয়েছিলেন।সেই পথেই নতুন ভারত এগোবে।তিনি বলেছেন, আর্থিক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। কয়লা ও খনির ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় এগিয়ে আসতে আগ্রহী করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কৃষি নীতির সংশোধনের ফলে বছরের পর বছরের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবেন কৃষকরা। এসেনসিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্টের সংশোধনের মাধ্যমে চুক্তিচাষের থেকে সরাসরি কৃষি ও শিল্প এক সূত্রে যুক্ত হবে।বলেছেন, এবার থেকে কৃষকরা যেখানে খুশি তাঁদের উত্পাদন বিক্রি করতে পারবে। এর ফলে, তাঁদের লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এর সঙ্গে অর্গ্যানিক কৃষির বিশ্বে সম্ভাবনার কথাও ব্যাখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

অন্যদিকে কলকাতা বারাণসী জলপথ পরিবহণ প্রকল্প চালু হয়েছে। বারাণসী থেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদী সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। সেই বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেছেন,তাঁর নিজের কেন্দ্রের সঙ্গে কলকাতার এই যোগ খুব ভাল লাগে। দেশে সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিক বর্জনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আবার বাংলায় রয়েছে পাটশিল্পের বিরাট হাব। প্লাস্টিক বর্জন করলে প্রয়োজন পড়বে পাটের ব্যাগ, প্যাকেজিং মেটেরিয়াল। এই যোগসূত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পাটের ব্যাগ, প্যাকেজিং মেটেরিয়াল তৈরি করলে তাতে রাজ্যেরও লাভ, দেশেরও লাভ। পশ্চিমবঙ্গে তৈরি পাটের জিনিসপত্র সারা দেশের মানুষের হাতে হাতে ঘুরবে, এটাও তো পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিরাট গর্বের বিষয়। প্লাস্টিক দ্রব্যের ব্যবহার হ্রাস পেলে সেই ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসবে পাটশিল্প। ইতিমধ্যেই প্লাস্টিক দ্রব্য বর্জনের ফলে বৃদ্ধি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের পাটশিল্পের।

এমনটা তো ছিলই ,পাট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং, হস্ত শিল্প থেকে কৃষি। মেধা থেকে মনন।  সাহিত্য থেকে সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারায়, বাঙালি দেশের অন্য অংশের থেকে অনেক এগিয়ে ,স্বাধীনতার আগে থেকে শুনে আসা যে কথার ধার কমছিল, সত্তরের দশকে .তারপর ক্রমেই হতাশা, বিলাপ আর দোষারোপ-র পালা। ঘুরে দাঁড়ানোর সময় যে এখন তা আরেকবার বাঙালিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন স্বামী বিবেকানন্দের ভাবাদর্শে চলেন বলে দাবি করা নরেন্দ্র মোদী। উঠে দাঁড়ানোর ডাকে বাঙালি সারা দেবে কিনা, বা, আবার জিতে আসতে পারছে কিনা তা সময় বলবে।