ওজোন স্তর মেরামত, চিন্তা অ্যান্টার্কটিকায়

0
111

করোনাভাইরাসের প্রকোপে জেরবার গোটা বিশ্ব।এর মধ্যে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের ক্ষত পৃথিবীবাসীর চিন্তা বাড়িয়েছিল।

কিন্তু এবার সুখবর দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ।ওজোন স্তরের সেই বিরাট ক্ষত নিজে থেকেই সেরে উঠছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্র সংঘ।২০১১ সালের মার্চ মাসেও ওজোন স্তরে এরকমই বিশাল ছিদ্র দেখা দিয়েছিল। রাষ্ট্রসঙ্ঘের আবহাওয়া দফতর তথা ডবলিউএমও জানিয়েছে, ওজোন স্তরের সেই ছিদ্র ভরাট হয়ে গিয়েছে, ফলে আর ভয়ের কিছু নেই।

জেনেভায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের আবহাওয়া দফতরের মুখপাত্র ক্লেয়ার নুলিস জানিয়েছেন, উত্তর গোলার্ধের বসন্তকালীন পরিবেশের পিছনেও ছিল বাতাসে অবস্থানকারী ওজোন স্তরের  ক্ষয়কারী উপাদান যা অধিক শীতল শীতকাল সৃষ্টি করেছিল স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে। মুখপাত্র ক্লেয়ার নুলিস জানিয়েছেন, ওই দু’টি ফ্যাক্টরের সম্মিলিত প্রভাবে অতিমাত্রায় ক্ষয় দেখা গিয়েছিল ওজোন স্তরে।যা ২০১১ সালের পরে এখনও পর্যন্ত সবথেকে মারাত্মক। কিন্তু এখন সেটা একেবারে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে গিয়েছে। ওজোন ছিদ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

তাহলে কি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সঙ্গে এর কোনও যোগ রয়েছে,এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, এটার সঙ্গে কোভিড-এর কোনও সম্পর্ক নেই। ২০১১ সালেও একবার এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।সেবারও ওজোন স্তরে বড়সড় ছিদ্র দেখা দিয়েছিল।বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।ওজোন স্তরের বেশ কিছু উপাদান ক্ষয় পেয়ে এই ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।তবে ওজোন স্তর নিজে থেকেই সেই ক্ষত সারিয়ে ফেলেছে।

এদিকে উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এই শতকের শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যতটুকু বাড়বে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল,তা আরও বেড়ে দ্বিগুণ হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।সাগরপৃষ্ঠের উপর তুষারস্রোতের প্রভাব নিয়ে আমেরিকার বিজ্ঞান সাময়িকী,প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস জার্নালে এতথ্য জানানো হয়েছে।এতোদিন পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, ২ হাজার ১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সর্বোচ্চ এক মিটার বাড়তে পারে।বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে নতুন গবেষণা বলছে,সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এর দ্বিগুণের বেশি হতে পারে।বলা হয়েছে,এর ভয়ঙ্কর পরিণামে লাখ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়তে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের সংস্থা ইন্টারগভার্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) ২০১৩ সালের পঞ্চম প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ক্রমবর্ধমান উষ্ণতার কারণে ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বে জলের স্তর ৫২ থেকে ৯৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।গ্রিনল্যান্ড এবং পশ্চিম ও পূর্ব অ্যান্টার্কটিকায় কী ঘটছে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। তাদের মত হলো,বিশ্ব জুড়ে উষ্ণায়নের বর্তমান হার চলমান থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৬২ থেকে ২৩৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে বিশ্ব জুড়ে উষ্ণতা বাড়বে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।নতুন গবেষণা বলছে, বিশ্ব জুড়ে তাপমাত্রা ২ সেলসিয়াস ডিগ্রি বাড়লে গ্রিনল্যান্ডের বরফের স্তর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলবে। তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি বাড়ে, তাহলে অ্যান্টার্কটিকার বরফের স্তর আরও বেশি প্রভাব ফেলবে।