
শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনূঢ়া কুমারা দিসানায়েকের বামপন্থী নির্বাচনী জোট ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার ,এনপিপি আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে তুমুল বিজয় অর্জন করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। দু দিন আগে শ্রীলঙ্কায় আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
পার্লামেন্টের আসনসংখ্যা ২২৫। এর মধ্যে ১৯৬ আসনে সরাসরি ভোট হয়। বাকি ২৯টি ,জাতীয়ভিত্তিক আসন। এগুলো রাজনৈতিক দলগুলো পাবে ১৯৬ আসনে প্রাপ্ত ভোটের ভাগ অনুযায়ী। ১৯৬ আসনের মধ্যে বামপন্থী এনপিপি ১৩৭টিতে জয় পেয়েছে। অর্থাৎ, তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারা প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে এনপিপি জোটের প্রধান প্রতিপক্ষ সমাগি জনা বালাবেগায়া,এসজেবি ৩৫টি আসনে জয় পেয়েছে।বলা হচ্ছে , ২২৫ আসনের পার্লামেন্টে এনপিপির আসনসংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।এর আগে,সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন অনূঢ়া। কিন্তু তখন পার্লামেন্টে তাঁর নির্বাচনী জোট এনপিপির আসন ছিল মাত্র তিনটি। পার্লামেন্টে নিজের জোটের আসনসংখ্যা বাড়াতে তিনি আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেন। এখন তাঁর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল।ভোট দেওয়ার পর অনূঢ়া বলেছিলেন, একটি শক্তিশালী পার্লামেন্ট গঠনের জন্য ম্যান্ডেট পাওয়ার আশা করছেন। আত্মবিশ্বাসী যে জনগণ তাঁদের সেই ম্যান্ডেট দেবে।অনূঢ়া আরও বলেছিলেন, শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এসেছে, যার শুরু সেপ্টেম্বরে। এই পরিবর্তন অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।বিশ্লেষকেরা বলছেন, পার্লামেন্টে অনূঢ়ার জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন তাঁর হাতকে শক্তিশালী করল। এখন তিনি তাঁর অর্থনৈতিকসহ অন্যান্য নীতি সহজেই বাস্তবায়ন করতে পারবেন।উল্লেখ্য,২০২২ সালে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যায় বহুগুণ। প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন শ্রীলঙ্কার বিক্ষুব্ধ জনগণ। ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালান।
এর প্রায় দু’ বছর পর সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। এতে জয়ী হন বামপন্থী রাজনীতিক অনূঢ়া। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দেন।
