মধ্যরাতের ফোনে জীবন বদল সাদাসিধে মনমোহনের 

0
148
ছবি সৌজন্যে :সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসাবে নেদারল্যান্ডসে গিয়েছিলেন মনমোহন সিং। একটি সম্মেলনে বক্তৃতা করে হোটেলে ফিরে বিশ্রাম করছিলেন তিনি। মধ্যরাতে হঠাৎই বেজে উঠল ফোন।
আর সেই ফোনই রাতারাতি রাজনীতির আঙিনায় নিয়ে এসেছিল অরাজনৈতিক মনমোহন সিংকে। ফোনের ও পারে ছিলেন দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাওয়ের প্রধান সচিব পিসি আলেকজান্ডার। মনমোহন সিংকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, অর্থমন্ত্রী হিসাবে তাঁকে নিজের মন্ত্রিসভায় চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। পিভি নরসিমা রাওয়ের মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে রাজি হয়েছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর মনমোহন সিং। ১৯৯১ সালের ২১ জুন দেশবাসীকে তো বটেই, কংগ্রেসের বহু নেতাকে অবাক করে দিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে অর্থমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। বাকিটা ইতিহাস। দেশ এবং বিশ্ব অর্থনীতির এক টালমাটাল সময়ে অর্থনীতির হাল ধরেছিলেন মনমোহন সিং। অর্থমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বভার সামলানো মনমোহন সিং রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে ২০০৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত একটানা ১০ বছর ওই পদে ছিলেন তিনি। অন্যদিকে, ভারতীয় রাজনীতির শীর্ষ আসনে বসেও মনমোহনের সিংয়ের সাদাসিধে জীবন ছিল তাঁর চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। স্বল্পবাক কিন্তু সিংহের মতো দৃঢ় প্রত্যয়ী মনমোহন সিংয়ের দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনও তেমনই ছিল ছিমছাম। সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে ছিমছাম জীবন কাটাতেন। ২০১৯ সালে মনমোহন সিং-র ওপেন হার্ট সার্জারির সময়ে স্ত্রীকে গুরুদ্বারে বসে ভজন-প্রার্থনা করতে দেখা গিয়েছে।
হাসপাতালে থাকাকালীন স্বামীর জন্য রোজ দুপুরে খাবার রান্না করে গুছিয়ে নিয়ে যেতেন গুরশরণ কৌর। কিন্তু, এবার সেই সুযোগ না দিয়ে দুজনের ৬৬ বছরের দাম্পত্যের সুতো ছিঁড়ে গেল।