এলাচের গুণ

0
155
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

এলাচ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি মসলা। স্বাদ আর গন্ধের জন্য একে মসলার রানিও বলা হয়। এটা যেমন খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায় তেমনি এর রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

এলাচ দুই রকম, সবুজ এলাচ এবং কালো এলাচ। এদিকে সবুজ এলাচ বেশি ব্যবহৃত হয় বটে, তবে দুেই ধরনের এলাচেরও রয়েছে সমাণ পুষ্টিগুণ। সাধারণতঃ বলা হয় প্রতি ১০০ গ্রাম এলাচে রয়েছে ৬৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেড, ৩১১ ক্যালরি শক্তি, প্রোটিন ১২ গ্রাম, ফ্যাট  ৭ গ্রাম, ফাইবার ২৮ গ্রাম,  ভিটামিন সি ২১ মিলি গ্রাম, পটাসিয়াম ১১১৯ মিলি গ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ২২৮ মিলি গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৮৩ মিলি গ্রাম। এদিকে এলাচ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে এবং শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। এটি আয়ুর্বেদিক এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।এলাচে উপস্থিত ফাইবার এবং এসেনশিয়াল অয়েল হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে। এটা বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা এবং বদহজম প্রতিরোধে কার্যকর। এছাড়া,এলাচে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণাবলী, যা শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো সমস্যা প্রশমিত করতে পারে।এলাচের পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটা হার্টের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এলাচের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে এবং কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। আর,এলাচে থাকা পলিফেনল এবং ম্যাগনেসিয়াম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।এমনকী ডায়াবেটিসেও সুরক্ষা দেয়।আবার,এলাচ প্রাকৃতিক মাউথফ্রেশনার হিসেবে কাজ করে। এটি মুখের দুর্গন্ধ দূর করে এবং দাঁত ও মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করে। অন্যদিকে,এলাচে অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান আছে। এটা শরীরে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।এলাচের আরোমাথেরাপি গুণ মানসিক চাপ কমায় এবং স্নায়ুর কার্যক্রম উন্নত করে।মনে রাখতে হবে,এলাচের ব্যবহার শুধু রান্নাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি বিভিন্ন পানীয়, মিষ্টি এবং হার্বাল চায়ে ব্যবহার করা হয়। এলাচ তেল, এলাচ গুঁড়ো এবং পুরো এলাচ,যে কোন রূপেই এর উপকারিতা পাওয়া যায়।সব মিলিয়ে ,দৈনন্দিন জীবনে এলাচের বেশ কিছু ব্যবহার রয়েছে। যেমন, চায়ের স্বাদ বাড়াতে, মাংস এবং বিরিয়ানিতে, হার্বাল ওষুধে, মাউথফ্রেশনার

হিসেবে এলাচ ব্যবহৃত হয়।এলাচের অনেক গুণ রয়েছে, অতিরিক্ত সেবনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন,এলার্জি প্রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক, রক্তচাপ অত্যধিক কমে যাওয়া। তাই পরিমিতি পরিমাণে পরিমাণে এলাচ খাওয়া উচিত।