
সাধারণতঃ সন্তানধারণের সময়ে যেমন হবু মায়েদের ওজন বেড়ে যায়,তেমন প্রসব-পরবর্তী কালে শরীরে মেদের আধিক্য ঘটে। শারীরবৃত্তীয় নানা পরিবর্তনের কারণেই সহজে ওজন নিয়ন্ত্রণে আসতে চায় না। শরীরচর্চা করার মতো ক্ষমতাও থাকে না নতুন মায়েদের।
এই অবস্থায় পরিমিত ক্যালোরি গ্রহণ করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কিন্তু এই সময়ে সদ্যোজাতটিকে স্তন্যপান করাতে হয় বলে কড়া ডায়েট মেনেও চলা যায় না। সেজন্যে প্রসবের পর বেশ খানিকটা ওজন বাড়লেও শরীরচর্চার পাশাপাশি রোজের ডায়েটে পুষ্টিকর খাবার রেখেই ওজন কমাতে পারেন। বলা হচ্ছে প্রসব-পরবর্তী ছ’মাস জলখাবারে খেতে পারেন আমন্ড মিল্ক আর ওট্স সঙ্গে খেজুরের গুঁড়ো আর হরেক রকম বেরি। দুপুরে গ্রিলড বেসিল ফিশ সঙ্গে সব্জি। দুপুরে কাজে বেরোতে হলেও গ্রিলড কিছুই থাকতে পারে ডায়েটে। বিকেলের দিকে কোনও দিন ডিমের ভুর্জি না হলে গ্রিক ইওগার্টের সঙ্গে ফল আর ড্রাই ফ্রুট। রাতের খাবারে পিনাট বাটার টোস্ট আর ডিম সেদ্ধ, এ ছাড়াও কোনও কোনও দিন বিটরুট চিকেন র্যাপ কিংবা ওট্সও খাওয়া যেতে পারে।এদিকে,অনেক মহিলাই সন্তান প্রসবের পর চটজলদি ওজন ঝরাতে ক্র্যাশ ডায়েট শুরু করেন।তবে এই প্রকার ডায়েট কিন্তু কখনওই স্বাস্থ্যকর হয় না। এখন প্রশ্ন হল,কেন উপোস করে ওজন ঝরানো বা ক্র্যাশ ডায়েট স্বাস্থ্যসম্মত নয়? উত্তর হল,ক্র্যাশ ডায়েটে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া হয় না, ফলে ইটিং ডিজ়অর্ডার দেখা দিতে পারে। আসলে ক্র্যাশ ডায়েটের পর যে ওজন বাড়ে, সে ক্ষেত্রে মেদ জমা হয় পেটে বা তলপেটে।এই মেদের কারণে ডায়াবিটিস,হৃদ্রোগ, ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।তবে পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া কোনও ডায়েট শুরু করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ,ক্র্যাশ ডায়েটের ফল ভয়ানক হতে পারে।সাধারণতঃ এই সময়ে মেয়েদের ওজন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। সন্তানজন্মের পরেও চট করে শরীর আগের আকার ফিরে পায় না। তার জন্য যথেষ্ট কসরত করতে হয়।ডায়েট করতে পারলেও ভাল হয়।
তবে, প্রসব করার পর নতুন মায়েদের শরীর অনেক রকম পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায়।তা ছাড়া সন্তানকে নিয়মিত স্তন্যপানও করাতে হয়। তাই চট করে কড়া ডায়েটের মধ্যে যাওয়াও ঠিক নয়। পাশাপাশি শরীর দুর্বল থাকে, সে ক্ষেত্রে খুব বেশি কায়িক পরিশ্রম করতে গেলেও কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে।








