
সাধারণতঃ বলা হয় পেটে মেদ জমা এবং তা কমানোর লড়াইটা আসলে বেশ চ্যালেঞ্জিং। আসলে যতই পরিশ্রম করুন, খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ করুন পেটের মেদ ঝরতে চায় না সহজে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীরের প্রতিফলন দেখলে বিরক্তিও আসে মনে।
কিন্তু পেটে মেদ জমার কারণ কী? শুধুই কি অনিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়া নাকি এর নেপথ্যে আরও কারণ আছে।বলা হয়,অতিরিক্ত ক্যালরি ও চিনি,প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে শরীর তা ভবিষ্যৎ শক্তির জন্য চর্বি হিসেবে জমিয়ে রাখে। বিশেষ করে চিনিযুক্ত পানীয় এবং মিষ্টি খাবার লিভারে চর্বি জমিয়ে পেটের মেদ বৃদ্ধি করে। এদিকে,বসে থেকে সময় কাটানো,দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করা এবং কায়িক পরিশ্রম না করার ফলে ক্যালরি খরচ হয় না, যা সরাসরি তলপেটে জমা হয়। হরমোনের প্রভাব, বিশেষ করে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন। যখন খুব দুশ্চিন্তায় থাকেন, শরীর তখন আত্মরক্ষার তাগিদে পেটের চারপাশে চর্বি জমাতে শুরু করে।আবার,ঘুমের অভাব,পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে মেটাবলিজম কমে যায় এবং ক্ষুধা বৃদ্ধির হরমোন ‘ঘ্রেলিন’ বেড়ে যায়, ফলে উল্টোপাল্টা খাবার বেশি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এবার প্রশ্ন হলো,মেদ ঝরানো এত কঠিন কেন? উত্তর হলো,চর্বি কোষের ভিন্নতা,শরীরের সব চর্বি এক নয়। পেটের চর্বি কোষে আলফা-রিসেপ্টর বেশি থাকে, যা চর্বি পোড়ানোর গতিকে কমিয়ে দেয়। অন্য দিকে, হাত বা পায়ের চর্বিকোষে বিটা-রিসেপ্টর বেশি থাকে, যা দ্রুত চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে। সহজ কথায়, পেটের চর্বি শরীরের অন্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি নাছোড়বান্দা। এটি একটি এনার্জি রিজার্ভার, বিবর্তনগতভাবে মানুষের শরীর পেটকে একটি সেফ ডিপোজিট বক্স হিসেবে ব্যবহার করে।
শরীর যখন মনে করে তার শক্তি দরকার, সে প্রথমে পেশির গ্লাইকোজেন ব্যবহার করে, তারপর অন্য অংশের চর্বি। পেটের চর্বি একদম শেষ সম্বল হিসেবে সংরক্ষিত থাকে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, পেটে মেদ যত বেশি থাকে, শরীর ইনসুলিনের প্রতি তত কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ না করলে শরীর চর্বি ঝরার বদলে আরও জমানোর সংকেত পায়। খানিকটা দুষ্টচক্রের মতো কাজ করে।এই জায়গা থেকেই, শুধু পেটের ব্যায়াম করে পেট কমানো সম্ভব নয়। পেটের মেদ কমাতে হলে পুরো শরীরের চর্বির ভাগ কমাতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস নিয়মিত স্ট্রেন্থ ট্রেনিং এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম।
