
ঢাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা করে শাহবাগ মোড়ে রাস্তা বন্ধ করে অবস্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব হাসপাতালের বেসরকারি ট্রেনি চিকিৎসকরা। ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
রবিবার সকালে বিএসএমএমইউ’র প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। কর্মসূচিতে আবাসিক-অনাবাসিক ট্রেনি চিকিৎসকরা অংশ নিয়েছেন।২৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে তাদের ভাতা ৫০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও করেছেন তারা।উল্লেখ্য,আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই তাদের এই আন্দোলন চলে আসছে জানিয়ে চিকিৎসকরা বলেছেন, ৩ বছর ধরে এই আন্দোলন চলে আসছে। তখন জামায়াত-শিবির ট্যাগ দিয়ে আন্দোলনকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হয়েছে।এবার অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তারা ভাতা বৃদ্ধির দাবি করছেন।
এদিকে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ট্রেন যেন সংস্কারের জটে আটকে গেছে। নতুন নির্বাচনের আকাশে কালো মেঘ ঘন হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের দূরত্ব বাড়ছে ক্রমশ। সঙ্গে বাড়ছে সন্দেহ এবং অবিশ্বাস।দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার নানা ক্ষেত্রে রীতিমতো ল্যাজেগোবরে। সবকিছু মিলে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে। কী হতে যাচ্ছে-সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
এ অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান নির্বাচনের সম্ভাব্য একটি সময়সীমা ঘোষণা করেছেন। আগামী দেড় বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে একটি নতুন নির্বাচনের ব্যাপারে মত প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। পর দিন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণের ব্যাখ্যায় তাঁর প্রেস সচিব বলেছেন, ২০২৬-এর ৩০ জুনের মধ্যে দেশে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। প্রশ্ন হলো-নির্বাচন আয়োজনে এত সময় লাগবে কেন? নাকি পর্দার আড়ালে অন্য কোনো খেলা শুরু হয়েছে? প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছে।
অন্যদিকে সরকার ও শিক্ষার্থীদের সমর্থনপুষ্ট জাতীয় নাগরিক কমিটি বলেছে, শেখ হাসিনার বিচার শেষ হওয়ার আগে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তাহলে প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক ঘোষিত সময়ে নির্বাচন হবে, নাকি এ নিয়ে নতুন করে শুরু হবে সংঘাত? রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্কে উপদেষ্টাদের কারও কারও নেতিবাচক মন্তব্য এখন বেড়েই চলেছে।
এর আগে ১৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, রোডম্যাপ ঘোষণার কথা বললেই যদি উপদেষ্টাদের চেহারায় অস্বস্তির ভাব ফুটে ওঠে, সেটি গণ অভ্যুত্থানের চেতনাবিরোধী। উপদেষ্টাদের অনেকে নির্বাচন চান না, তাঁরা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে চান-রাজনীতির মাঠে এমন গুঞ্জন বাড়ছে।আর সেখান থেকেই আসছে,বাংলাদেশে কি তাহলে আরেকটি এক-এগারো আসছে? আরেকটি এক-এগারোর মঞ্চ প্রস্তুত হচ্ছে সবার অগোচরে ?
কারণ এই বছরের জুলাই বিপ্লবের প্রধান লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। জনগণের নির্বাচিত সরকারে ক্ষমতা হস্তান্তর।অভিযোগ গত সাড়ে ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করেছিল। ২০১৪ সালে বিনা ভোটে নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট, আর ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনব্যবস্থা তামাশায় পরিণত করা হয়েছিল। যে তরুণ প্রজন্ম জুলাই বিপ্লবে রক্ত ঢেলে দিয়েছিল, তারা বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনই দেখেনি, ভোট দিতে পারেনি। সেই ভোট দেওয়ার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই ছিল জুলাই বিপ্লবের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে ততই যেন লক্ষ্যচ্যুত হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম। নির্বাচন যত পেছাবে গণ অভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ততই দুরূহ হয়ে যাবে।
