ভাষার সন্ত্রাস মহামারী আইন ভাঙছে : মমতা

0
2

Last Updated on by

একাধিক ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েই ৩১ জুলাই পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন চলবে।  ১ জুলাই থেকে মেট্রো পরিষেবা চালু করতে আপত্তি নেই রাজ্যের। জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে একইসঙ্গে কোভিড মোকাবিলার জন্যও একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে রাজ্য সরকার। বেসরকারি কেন্দ্রগুলিতে যাতে করোনা পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে না হয়, তার জন্যও বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এতদিন বেসরকারি কেন্দ্রগুলিতে করোনার পরীক্ষার জন্য দিতে হত সাড়ে ৪ হাজার টাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন,এবার থেকে নমুনা টেস্টের জন্য দিতে হবে ২ হাজার ২৫০ টাকা। সেই সঙ্গে পিপিই-সহ সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকার অন্যান্য সরঞ্জামের মূল্য দিনপিছু বেঁধে দেওয়া হয়েছে এক হাজার টাকায়।এছাড়াও যাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হচ্ছেন,তাঁদের সর্বোচ্চ খরচ কী হতে পারে, সেটি মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, প্রতিদিনই নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে সংক্রমিতের সংখ্যাটাও বাড়ছে। কিন্তু অর্ধেকের বেশি রোগীই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাই অ্যাকটিভ কেসের দিকে নজর রাখলেই বর্তমানে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির সঠিক ছবিটা বোঝা যাবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, করোনা আক্রান্তের একটা সংখ্যা তো একটা তুলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই সুস্থ। তাই এখন কতজন করোনা পজিটিভ,সেটাই দেখতে হবে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ৫ হাজার ৩৯টি অ্যাকটিভ কেস রয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৬৫ শতাংশ রোগী।তবে অতিরিক্ত সংক্রমিত রাজ্য থেকে ট্রেন বা বিমান না এলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও কম হতেই পারত বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য কেন্দ্রকেই একহাত নিয়েছেন মমতা।

আসলে লক ডাউনের এই সময়ে ঘূর্ণিঝড় আমপান বিধস্ত এলাকায় ত্রাণ বিলি নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের লাগামছাড়া দুর্নীতি নিয়ে রাজনীতিতে কুকথা যেন লেগেই রয়েছে। বারবার শাসক দলকে আক্রমণ করতে গিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বসেছেন বিজেপি নেতারা।তার জেরে গেরুয়া শিবিরের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রুজু করছে পুলিশ। তবে তা সত্ত্বেও যেন কুমন্তব্যে রাশ টানা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে নাম না করে বিজেপি নেতাদের আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দিনকয়েক আগে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, বদলা চাই। বদলও চাই।আবার বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সরাসরি আক্রমণ করেছেন বারাসতের পুলিশ সুপারকে। তাঁকে চড় মারার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু আবার সরাসরি থানা পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। বারবার এমনই বেফাঁস মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন বিজেপি নেতারা। তাঁদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রুজু হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও কুকথায় রাশ টানা যায়নি। বরং যত দিন যাচ্ছে, ততই যেন কুকথা চলেছে। শুক্রবার রাজ্য সচিবালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে নাম না করে বিজেপিকে খোঁচা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ভাষার সন্ত্রাস মহামারী আইন ভাঙছে।

এদিকে লকডাউনের জেরে দেশের আর্থিক ঘাটতি মেটাতে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল কেন্দ্র সরকার।  তার মধ্যে অন্যতম ছিল কয়লা খনির বেসরকারিকরণ,সেখানে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের কথা অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ নিজে ঘোষণা করেছিলেন।পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  নিলামের উদ্বোধনও করেছেন। এবার কেন্দ্রের এই নীতির বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তাঁর বক্তব্য, কয়লা খনির মতো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ যা অর্থনীতিতে একটা বড় ভূমিকা নেয়, তাকে এভাবে বেসরকারিকরণ করে আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলা যায় না। কারণ, দুটি ভাবনা পরস্পরর বিরোধী। তাতে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যাবে। চিঠিতে তাঁর বিনীত অনুরোধ, সিদ্ধান্ত যেন পুনর্বিবেচনা করে দেখে কেন্দ্র সরকার।কয়লা খনিগুলিকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে বিতর্ক ছিলই। তা সত্ত্বেও করোনা, লকডাউন আবহে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠিক এক সপ্তাহ আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৪১টি কয়লা খনির নিলাম প্রক্রিয়া উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।তবে ওইদিন তিনি একইসঙ্গে এও বলে ছিলেন যে বিদেশি পণ্যে নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় পণ্য ব্যবহারে জোর দিতে হবে।

এর পরই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের বাংলার প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বহু ক্ষেত্রে এ রাজ্যের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী সরকার বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ , উত্তরপ্রদেশ, বিহার, রাজস্থানের জন্য এক রকম নিয়ম, আর বাংলার জন্য আর এক রকম নিয়ম তৈরি করা হচ্ছে। এটা ঠিক হচ্ছে না। বাংলাকে বঞ্চনা রাজ্যের মানুষ মানবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here