‘ইতিহাস সদয় থাকবে’, বলেছিলেন মনমোহন 

0
174
ছবি সৌজন্যে : সংগৃহীত
ইতিহাস তাঁর প্রতি সদয় থাকবে।প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শেষ সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই বলেছিলেন মনমোহন সিং।ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাস বলছে, এখনও পর্যন্ত জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী এবং নরেন্দ্র মোদী ছাড়া মনমোহন সিংই ছিলেন দীর্ঘতম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন।
২০০৪ থেকে ২০১৪। একটানা ১০ বছর। তাছাড়া, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত নরসিমা রাওয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বে দেশের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। সামলেছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর, যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান, রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতার পদও। কম কথা বলার মানুষ হলেও মনমোহন সিং নিজের কাজে ও সিদ্ধান্তে ছিলেন স্থিতপ্রজ্ঞ। ২০০৮ সালে ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তির সময় তাঁর অনমনীয় মনোভাব সবাইকে চমকে দিয়েছিল। সরকার পড়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কার মধ্যেও তিনি ছিলেন অবিচল।তার চেয়েও আগে মনে পড়ে যায় ১৯৯১ সালের কথা। নরসিমা রাও তখন প্রধানমন্ত্রী। মনমোহন সিং তাঁর অর্থমন্ত্রী। ভারতীয় অর্থনীতি তখন রীতিমতো ধুঁকছে। বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডারে ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের মতো। এই পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে উদারনীতি গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাতারাতি লাইসেন্স রাজের সমাপ্তি ঘটে যায়। আর ওই এক পদক্ষেপেই বিশ্বের অন্যতম অর্থনীতি হয়ে উঠেছিল ভারত। এরপরেই ২০০৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে মনমোহন সিংকে নির্বাচন ছিল আসলে ১৯৯১ সালের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জাদু, তেমনই ছিল তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিও। পরবর্তী ১০ বছরে মাত্র তিনবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মনমোহন সিং। যার মধ্যে শেষটা ছিল বিদায়বেলায়। সেবার অভিমান ঝরে পড়েছিল তাঁর কণ্ঠে। বলেছিলেন, মিডিয়ার চেয়ে ইতিহাস তাঁর প্রতি বেশি দয়াপ্রবণ থাকবে। বছর দুয়েক আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় হুইলচেয়ারে মনমোহন সিংকে দেখে চমকে উঠেছিল দেশ। তিনি যে শুধু ভোট দিয়েছিলেন তাই নয়, এসেছিলেন একেবারে শুরুর দিকে। দেখা গিয়েছিল, প্রথম দু’ঘণ্টায় ভোটের হার খুবই কম।
তবু তারই মধ্যে ছিলেন দু’জন- মনমোহন সিং ও নরেন্দ্র মোদী।সেদিন ৮৯ বছরের নেতাকে দেখে অনেকেই আশঙ্কায় ভুগেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি করে শারীরিক অসুস্থতার কাছে হার মেনে বিদায় নিলেন মনমোহন সিং। কিন্তু রেখে গেলেন তাঁর কর্মসম্ভার।