
দাদুর কাছে ৩ বছরের মেয়ে এবং ৮ বছরের ছেলেকে রেখে বাবা-মা শপিংয়ে গিয়েছিলেন। দুই ভাইবোন পিৎজা আর কেকে মজেছিল। বাইরে আগুন লেগে যায় বুঝতেই পারেনি তাঁরা।
দমবন্ধ হয়ে দুই ভাই বোন এবং দাদুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা চেন্নাইয়ের বাসিন্দা। অভিশপ্ত হোটের ৩১৩ নম্বর ঘরেই ছিলেন দাদু, নাতি-নাতনি। দমকলকর্মীরা দুই শিশুর দেহ পান বিছানা থেকে আর শৌচাগারে পড়েছিলেন দাদু। ৪১৯ নম্বর ঘরে ছিলেন ওড়িশার কটকের বাসিন্দা ৪১ বছরের রাজেশ সন্তুকা। টেক্সটাইল ব্যবসায়ী রাজেশ এর আগেও ওই হোটেলে থেকেছেন। কাপড় নিয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টায় হাওড়া থেকে ট্রেনে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তার আগেই বিধ্বংসী আগুন সব শেষ হয়ে গিয়েছে। বিহারের ভাগলপুরের বাসিন্দা ২০ বছরের নীরজ কুমারের পরিণতি একই। তাঁর দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে। অথচ মুম্বইয়ের বাসিন্দা শ্যাম পাণ্ডে ৩০১ নম্বর ঘরে ছিলেন। যখন আগুন লাগে তখন তিনি ঘুমোচ্ছিলেন। ৪ ঘণ্টা পর দমকল গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। তিনি কিভাবে বেঁচে ফিরেছেন তা নিজেও বুঝতে পারছেন না। মঙ্গলবার রাতে ঋতুরাজ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ২ শিশু সহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
৬ নম্বর মদন মোহন বর্মন স্ট্রিটের ঋতুরাজ হোটেলের একতলায় দোকান ও গুদাম রয়েছে। হোটেলের ৪৭টি ঘর রয়েছে। কর্মী সংখ্যা ৬০ জন। ৪২ টি ঘরে ৮৮ জন আবাসিক ছিলেন। এদের মধ্যে অনেকেই ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। প্রাণ বাঁচাতে পাইপ বেয়ে নামতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের। কেউ আবার ছাদের কার্নিস থেকে পড়ে গিয়ে মারা গিয়েছেন। সিঁড়ির কাছেও অনেকের দেহ পড়েছিল।








